কামারহাটিতে গৃহবধূকে অ্যাসিড খাইয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে, গ্রেফতার স্বামী

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৩ এপ্রিল: গৃহবধূকে অ্যাসিড খাইয়ে খুন করার চেষ্টার অভিযোগ উঠলো স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বর্তমানে কমারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়ছে গৃহবধূ বিপাশা কুন্ডু (৩৪)। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে স্বামী প্রসেনজিৎ কুন্ডু (৩৪)।

বেশ কয়েক বছর আগে অনেক স্বপ্ন নিয়ে ধুমধাম করে বরানগর আলম বাজারের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ কুন্ডুর সাথে বিয়ে হয় বরানগর ঝিল বাগানের বাসিন্দা বিপাশা কুণ্ডুর। কিন্তু সেই আনন্দ বেশি দিন টিকল না। অভিযোগ, বিয়ের সময় ছেলের বাড়ি ১ লক্ষ টাকা পণ চাইলে বিপাশা কুণ্ডুর বাবা সেটা দিতে রাজি হননি, কিন্তু তা সত্বেও সোনার গয়না ও অন্যান্য জিনিস দিতে রাজি হওয়ায় অবশেষে সম্বন্ধ্য করেই বিয়ে সম্প্নন হয় প্রসেনজিৎ ও বিপাশার। কিন্তু তার পর থেকেই বিপাশা দেবী ও তার বাবার থেকে মাঝে মাঝেই টাকা জন্য চাপ দিত বলে অভিযোগ। এমন কী বিপাশার কন্যা সন্তান হওয়াতেও অশান্তি চলত বিপাশা দেবী ওপর এবং পুত্র সন্তানের জন্য চাপ দিত শ্বশুর বাড়ির লোক। কয়েক মাস আগে বিপাশা কুণ্ডুর ছেলে সন্তান হওয়ার পরও তার ওপর চলছিল অত্যাচার ও অশান্তি। শুধুমাত্র পণ বা কন্যা সন্তানের জন্যই নয়, প্রসেনজিতের অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ করলেন বিপাশার বাবা অনন্তবাবু। শুক্রবার অশান্তি চরমে ওঠে এবং বিপাশা দেবী অ্যাসিড খেয় আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে বলে প্রসেনজিৎ কুন্ডু ফোন করে স্ত্রীর বাপের বাড়িতে খবর দেন। তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় কামারহাটি সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখানে তিনি এখন চিকিৎসাধীন। এরপর গৃহবধূর বাপের বাড়ি আত্মীয়রা এসে বরানগর থানায় জামাই ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে বরানগর থানার পুলিশ গতকাল রাতে প্রসেনজিৎ কুন্ডুকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনা সম্পর্কে গৃহবধূর বাবা জানান, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর পনের টাকার জন্য অত্যাচার করা হতো, এমন কি মারধর করা হতো।

মেয়ে বেশ কিছু দিন ধরে সব ছেড়ে চলে আসতে চাইছিল, কিন্তু তার আগেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমার মেয়ে নিজে অ্যাসিড খায়নি ওকে জোর করে খাওয়ানো হয়েছে। কারণ ওর মুখের বাইরেটা পুড়ে গেছে আর গায়ে মারধরের দাগ ও দেখা গেছে। আমরা প্রসেনজিৎ আর ওর বাড়ির লোকের শাস্তি চাই। আমার মেয়ে কে আমি আমার বাড়ি ফিরে আনতে চাই।” এই গোটা ঘটনায় বরানগর থানার পুলিশ অভিযুক্ত প্রসেনজিতকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *