স্বামী স্ত্রী একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে ঝামেলা মেটালো পুলিশ

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১৭ জুন: মদ্যপ স্বামীর অত্যাচারে বাড়িতে অশান্তি চরমে উঠেছিল। এনিয়ে স্ত্রীর গঞ্জনা থেকে নিস্তার পেতে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল স্বামী। ঝাঁপ দিয়েছিল কুয়োতে। প্রতিবেশীদের তৎপরতায় এবং পুলিশের চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত প্রাণ ফিরে পান স্বামী। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরতেই মিষ্টি নিয়ে হাজির পুলিশ কর্মীরা। স্বামী স্ত্রী একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে বিবাদ মেটালো পুলিশ। 

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার কাঁইজুলি বোডিং পাড়ায়। পেশায় গ্যারেজ মিস্ত্রি নাসু শেখ। স্ত্রী ঝুমা বিবি গৃহবধূ। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার। নাসু যা রোজগার করে তাতে তাদের দিব্যি সংসার চলে যায়। কিন্তু অশান্তির সূত্রপাত নাসুর নেশা করে বাড়ি ফেরা নিয়ে। বৃহস্পতিবার রাতে অশান্তি চরমে ওঠে। প্রতিবেশীরা গিয়ে ওই রাতে ঝামেলা থামায়। সকাল হতেই সেই ঝামেলা আবার চরম আকার নেয়। রাগ করে বাড়ির উঠানের কুয়োতে ঝাঁপ দেন স্বামী। ঝুমা ভাবতেও পাড়েনি, নাসু রাগের মাথায় এত বড় ঘটনা ঘটিয়ে ফেলবে। স্বামীর প্রাণ বাঁচাতে ঝুমা চিৎকার করতে থাকে। প্রতিবেশীরাও বেরিয়ে আসে। এলাকায় কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার ঘটনার কথা জানতে পেরে খবর দেয় থানায়। মহঃবাজার থানার ওসি তপাই বিশ্বাস তৎক্ষণাৎ ট্রাফিক ওসি বিদ্যাসাগর পালকে উদ্ধার কাজে পাঠান। তড়িঘড়ি দড়ি নিয়ে চার জন পুলিশ কর্মী ও স্থানীয় লোকজন মিলে নাসু শেখকে কুয়ো থেকে তুলে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাসু। তড়িঘড়ি তাকে গাড়িতে তুলে মহঃবাজার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় পুলিশ।

প্রতিবেশী সাহিদা বিবি বলেন, “সকাল থেকে ওদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া শুরু হয়। আচমকা নাসু সেখ বাড়ির কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। পুলিশ এসে দড়ি দিয়ে কুয়ো থেকে তুলে প্রাণ বাঁচায়।” 

হাসপাতালে চিকিৎসার পরে দুপুরে ফের পুলিশই গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেয় নাসুকে। ফেরার পথে পুলিশ আধিকারিক বিদ্যাসাগরবাবু এক প্যাকেট মিষ্টি কেনেন। বাড়িতে তখন স্বামীর জন্য কান্নায ভেঙেপড়েছেন স্ত্রী ঝুমা বিবি। স্বামী স্ত্রীকে পাশে বসিয়ে একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে দেয়। এভাবেই পারিবারিক ঝামেলা মেটালো পুলিশ।

নাসু জানায়, “আর আমি নেশা করব না। সময়ে পুলিশ এসেছিল বলে প্রানে বাঁচলাম।” 

স্ত্রী ঝুমা বিবি বলেন, “নেশা করা নিয়ে অশান্তির জন্য এত বড় ঘটনা ঘটে গেল। আমি স্বামীকে নিয়ে সংসার করতে চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *