খালে ভাসছে শয়ে শয়ে কচ্ছপের মৃতদেহ, কাঁথি ৩ নং ব্লকের ঘটনায় এলাকায় ছড়াল আতঙ্ক

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ১৫ জুন: খালের জলে ভাসছে শতাধিক কচ্ছপের মৃতদেহ। বুধবার সকালে ঘটনাটি নজরে এসেছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ৩ নং ব্লকের দেবেন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। এলাকার একটি রাইস মিলের জল থেকে ছড়ানো দূষিত জলের ধাক্কায় কচ্ছপগুলির প্রাণ গিয়েছে বলেই দাবি এলাকাবাসীর। ঘটনাটি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে তদন্তে গিয়েছেন কাঁথি থানার পুলিশ, বন দফতর, ভেটেনারি সার্জেন থেকে ব্লক প্রশাসনের আধিকারীকরা। কোন কারণে এতগুলি কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে তার তদন্তের পর উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কাঁথি ৩ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক নেহাল আহমেদ জানিয়েছেন।

বিডিও নেহাল আহমেদ জানিয়েছেন, “আমি দুপুর নাগাদ ঘটনার খবর পেয়েছি। এরপরেই স্থানীয় পুলিশ থেকে পঞ্চায়েতের আধিকারীক, ভেটেনারি সার্জেন ও বন দফতরের আধিকারীকদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে, প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। তবে সেভাবে কোনও মাছের মৃত্যু হয়নি”। তিনি জানান, “ঠিক কোন কারণে এতগুলি কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে তা জানতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে” বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্রের খবর, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি ৩ ব্লকের দেবেন্দ্র গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় সীতা মা নামে একটি রাইস মিল রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাইস মিলের জল ড্রেনের সাহায্যে খালের জলে ছেড়ে দেওয়া হয়। কোনো পরিশোধন ছাড়াই তা ছাড়া হয় বলে গ্রামবাসীদের অভিযোগ। বুধবার আসে বিপত্তি। এই খালের জল পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামের জল গিয়ে কালীনগর খালের জলে মিলিত হয়। তারপর সেখান থেকে সমুদ্রে যায়। বুধবার সাতসকালে নজরে আসে কয়েক শতাধিক কচ্ছপ ও মাছের মৃত্যু হয়েছে। তা গ্রামবাসীদের চোখে পড়তেই চক্ষু চড়কগাছ। কার্যত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ধান জমি ও খালের জলে মৃত কচ্ছপের স্তুপ হয়ে পড়ে রয়েছে।

এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সুরঞ্জন দাস বলেন, “রাইস মিলের গাফিলতির কারণে জীব বৈচিত্র আমরা হারাতে বসেছি। বর্জ্য পদার্থ কোনো রকম পরিশোধন না করেই খালের জলে ছেড়ে দেন রাইস মিল। পরিবেশকে আমাদের বাঁচাতে হবে। পরিবেশ নষ্ট হলে আমরা কেউ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারবো না। রাইস মিল অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে”।

এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রঞ্জিত জানা বলেন, “এই অভিযোগ একাধিকবার প্রধানের কাছে গেছে৷ এই অভিযোগ শুধু জনগণের নয় আমারও অভিযোগ রয়েছে৷ রাইস মিলের জল পরিশোধন না করেই খালের জলে ফেলা দেওয়া হয়। আমি চোখে দেখেছি৷ খালের জলে শতাধিক কচ্ছপ মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে”।

যদিও রাইস মিলের ম্যানেজার দীপক পণ্ডা বলেন, “কচ্ছপ মারা গেছে নাকি জানি না। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম৷ এখানকার জল নাকি অন্য কোথাকাও জলের কারণে এমন ঘটনা তা খতিয়ে দেখতে হবে “।

এই ঘটনায় কাঁথি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্য বিজেপি সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অনুপ চক্রবর্তি বলেন, “রাজ্যের সমস্ত উদ্যোগ এখন তলানিতে গেছে। রাজ্যে এখন শিল্প নেই। রাজ্যের যে কয়টি শিল্প রয়েছে তার নজরদারির ব্যবস্থা করছে না রাজ্য। তিনি কটাক্ষ সুরে বলেন, “রাইস মিলের চাল তৈরি হয় নাকি বোমা তৈরি হয়? তদন্ত করে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি”।

কাঁথি বনদপ্তরের আধিকারিক বলরাম পাঞ্জা বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অন্যান্য কর্মীদের পাঠানো হয়েছে৷ অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *