পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২২ ডিসেম্বর: মেদিনীপুরে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের দুদিনের সম্মেলনে প্রদর্শিত হল প্রায় শতাধিক মিষ্টি তৈরির মেশিন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার হাতে মিষ্টি না তৈরী করে যন্ত্রের মাধ্যমেই মিষ্টি তৈরি করছেন মিষ্টি বয়বসায়ীরা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত জঙ্গলমহলে মেশিন দিয়ে মিষ্টি তৈরীর চল শুরু হয়নি। তাই মিষ্টি ব্যবসায়ীদের এই সম্মলনে প্রদর্শিত হল মিষ্টি তৈরীর বিভিন্ন যন্ত্র, যা দিয়ে অতি অল্প সময়ে বানিয়ে নেওয়া যাবে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি।
উল্লেখ্য, কুড়ি ও একুশে ডিসেম্বর মেদিনীপুরে শুরু হয়েছে দুদিনের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের রাজ্য সম্মেলন। যে সম্মেলনে ভিন্য ভিন্য জেলা থেকে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা যোগদান করেছে। এই সম্মেলনে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি স্টল রয়েছে। যে স্টলগুলিতে প্রদর্শিত হচ্ছে মিষ্টি তৈরি করার বিভিন্ন মেশিন। ছানা পাকানো থেকে শুরু করে সন্দেশ তৈরি। গোলাপ জামুন, রসগোল্লা, পান্তুয়া থেকে ক্ষীরের মিষ্টি সবই তৈরি করছে যন্ত্র। আর সেই যন্ত্রই এখন প্রধান ভরসা মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের। কারণ যেভাবে প্রতিদিন মিষ্টি ব্যবসায় কারিগরদের সমস্যা তৈরি হয়েছে গোটা রাজ্য সহ জঙ্গলমহলে তা মেকআপ দিতে এবার যন্ত্রকেই হাতিয়ার করল মেদিনীপুরের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। মেশিন দিয়ে মিষ্টি তৈরী গোটা রাজ্যে ব্যাপকভাবে শুরু হলেও জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরের গুটি কয়েক দোকানে এই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু প্রতিদিন যেভাবে কারিগর ও শ্রমিকের ঘাটতি ঘটছে তাতে যন্ত্রপাতির উপরে ভরসা রাখছে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। তাই
এদিনের এই মেশিন প্রদর্শনীতে ভিড় জমালো শহর, জেলা ও রাজ্যের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। তারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন এই যন্ত্রপাতির কলা কৌশল। দেখলেন কিভাবে এক পাশে ময়দা দিতে হয় আর এক পাশ দিয়ে পুরোপুরি মিষ্টি তৈরী হয়ে বেরিয়ে আসছে এই মেশিনে।

প্রদর্শিত মেশিন দেখে ব্যবসায়ী নাড়ু হালদার, বাপ্পা বণিক, তাপস দাসরা জানালেন, এই মেশিন আমাদের মিষ্টি তৈরি করার ক্ষেত্রে বিশেষ কাজে লাগবে। কারণ আমরা প্রতিদিনই মিষ্টি তৈরি করা নিয়ে কারিগরদের ঘাটতির সমস্যা বুঝি। কারিগররা বিভিন্ন সময় আসতে চায় না। এলেও ঠিক মত কাজ করে না। সঠিক সময়ে সঠিক কারিগর পাওয়া যায় না তাই আমাদের এই মেশিন বহু কাজে লাগবে এবং মিষ্টি ও ব্যবসাতে আমাদের ঘাটতি মিটবে।
এই যন্ত্রপাতি এবং মেশিন প্রদর্শনকারি ব্যবসায়ী প্রবাল মুখার্জি, বাপ্পা ভৌমিকরা জানান, তাদের এই মেশিন গোটা রাজ্যজুড়ে বিখ্যাত। এখন কারিগরদের সমস্যা মেটাতে এই মেশিন কিনছেন মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীরা। কম দামে কম বাজেটে এবং একদম হাতে তৈরি করা মিষ্টি এখন পাওয়া যাবে দোকানে। এক ঘন্টায় প্রায় ছয় হাজার রসগোল্লা তৈরি করতে পারবে এই কম বাজেটের মেশিনগুলো।
যদিও এই সম্মেলনে মিষ্টির মেশিন প্রদর্শনী সম্পর্কে মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীর সভাপতি গণেশ মাইতি বলেন, এই প্রথম রাজ্য সম্মেলনে আমাদের এই যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হল। যেখানে আমরা জঙ্গলমহলের মিষ্টান্ন ব্যাবসায়ীদের উৎসাহিত করতে চাইছি এবং বর্তমানে কারিগরদের। সমস্যা সমাধানে আমরা এই ব্যবস্থা করেছিলাম।

