আমাদের ভারত, ১১ মে:
গঙ্গার জলে কয়েকশো মৃতদেহ ভাসছে। পচে-গলে ফুলে উঠেছে সেই সমস্ত মৃতদেহ। দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বক্সারে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রত্যেকেই কোভিডেই আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বিভীষিকাময় এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই শিউরে উঠেছে মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে করোনায় মৃতদের দেহ সব গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবার বিহার সীমান্তের চৌসা শহরেও কয়েকশো লাশ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে। এত মৃতদেহ কোথা থেকে এল এই প্রশ্নের উত্তর প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনায় চৌসার মহাদেবপুর সংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চৌসার জেলা আধিকারিক অশোক কুমার বলেছেন প্রায় ৪০-৪৫টি মৃতদেহ ভাসতে দেখা গিয়েছে। লাশগুলি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যতগুলি লাশ এখনো পর্যন্ত দেখা গেছে তার সবগুলোই প্রায় একই রকম। প্রতিটিদেহ ফুলে গিয়ে পচে গিয়েছে। কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে জলে রয়েছে দেহগুলি বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশ থেকে ভেসে আসতে পারে দেহগুলি বলেও মনে করা হচ্ছে।
নদীর জলে ভেসে মৃতদেহগুলো নিয়ে করোনার ভয়ে নদীর জল ব্যবহারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যমুনার জলেও কয়েক ডজন লাশ ভাসতে দেখা গেছে। রবিবার সকালে উত্তর-প্রদেশের হামিরপুরের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা যমুনার জলে একাধিক মৃতদেহ ভাসতে দেখেন। তা থেকেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, হামিরপুর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় করোনা সংক্রমনের হার অত্যন্ত বেশি। করোনায় আক্রান্তের মৃতদেহ পরিমাণ এতটাই বেশি যে শ্মশানের দেহ পোড়ানো ব্যবস্থা করতে হিমশিম পরিস্থিতি। এমন অবস্থা যে ফাঁকা মাঠে মৃতদেহ পোড়ানো হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন দেহ সৎকার না করে যমুনার জলে ভাসিয়ে দিচ্ছে। অনেকে আবার ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তাদের দাবি, বেশকিছু গ্রামের মানুষ শ্মশানে না পুড়িয়ে ফাঁকা মাঠে দেহ পোড়াচ্ছে অথচ এসব দেখেও চুপ প্রশাসন। কত দেহ পোড়ানো হচ্ছ সেই বিষয়েও প্রশাসনের কাছে হিসেব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

