সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১ জুলাই: শতবর্ষ প্রাচীন পিতলের নির্মিত সুউচ্চ দুই রথের রাস্তা পরিক্রমা ঘিরে আজও ব্যাপক উন্মাদনা বাকুড়ায়।
একসময়বাঁকুড়া শহরের অন্যতম ব্যবসায়িক এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল ব্যাপারীহাট। সেই সময় কয়েকজন উৎসাহী ব্যবসায়ীর উদ্যোগে সূচনা হয় রথের। সেই সূত্রেই রথের নামকরণ হয় ব্যাপারীহাটের রথ। পিতল নির্মিত এই রথের কারুকার্য উল্লেখ করার মত। সীতার পাতাল প্রবেশ, অহল্যা উদ্ধার, সীতার কোলে লবকুশ, বালি সুগ্ৰীবের যুদ্ধ ছাড়াও দশভূজা দেবী দুর্গার মূর্তি খোদিত আছে রথে। বাংলার ১৩১৮ সালের ২৭শে আষাঢ় রথের নির্মাণ কাল খোদিত রয়েছে। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী শহরের রামধীন কর্মকার এই রথের মূল কারিগর।

(বড় রথ)
ব্যপারীহাটের রথের কয়েকবছর পরেই শহরের আর এক ব্যবসায়িক এলাকা চকবাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী যুবক আর এক রথের সূচনা করেন। ওই সময় এই দুই ব্যবসায়িক এলাকার মধ্যে একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা চালু ছিল। অনুমান ব্যপারীহাটের রথের বিকল্প হিসেবে চকবাজারে রথের সূচনা। যেহেতু ব্যপারীহাটের রথ প্রথম চালু হয় সেই কারণে এই রথ “বড় রথ” ও চকবাজারের রথ “ছোট রথ” বলে খ্যাত।
ব্যাপারীহাটের রথ ও চকবাজারে রথ দুটিই উচ্চতায় প্রায় ৪২ ফুট।রাস্তা পরিক্রমায় অসুবিধার কারণে বড় রথের রাস্তা পরিক্রমা কিছুকাল বন্ধ থাকার পর ১৪১৪ সালে নতুন উদ্দীপনায় রথ সংস্কার করা হয়। এর ফলে রথের উচ্চতা কমিয়ে ২৮ ফুট করা হয়। পুরাতন
শিল্পকর্মকে অটুট রেখেই অধুনিক প্রদ্ধতিতে স্টিয়ারিং লাগানো হয় রথ চালানোর সুবিধার্থে। ছোট রথের নির্মাণ কালেই স্টিয়ারিংয়ের ব্যবস্হা করা হয়।

(ছোট রথ)
দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সুদক্ষ ইঞ্জিনিয়ারের মডেল অনুসরণ করে বর্ধমানের শিল্পী কাঙ্গাল কর্মকার ও তার সহকারীরা এই রথ নির্মাণ করেন। সূচনাকাল থেকেই দুটি রথ শহরের প্রধান রাজপথ ইন্দারাগোড়া মোড় থেকে বীরসাভারকর সরণীর রানীগঞ্জ মোড়, বড়বাজার, মাচানতলা রাস্তা পরিক্রমা করতো।যার ফলে একটা প্রতিযোগিতার পরিমন্ডল তৈরী হোত। নিত্য নতুন আলোকসজ্জা, ব্যান্ডপার্টি,বাজনা ছিল প্রতিযোগিতার মূলে।শহরবাসী তা উপভোগ করত।
বর্তমানে বড় রথের রাস্তা পরিক্রমায় রদবদল হয়েছে। বড়বাজারের দিকে না গিয়ে রানীগঞ্জ মোড় থেকে রাসতলা হয়ে নূতনগঞ্জে ফিরে আসে।সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছুর পরিবর্তন হলেও রথ ঘিরে উন্মাদনা আজও বিদ্যমান।

