গোপীবল্লভপুরে হাতি তাড়াতে গিয়ে মৃত্যু হল এক হুলা পার্টির সদস্যের

অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১৫ এপ্রিল: হাতি তাড়াতে গিয়ে মর্মান্তিকভাবে হাতির হানায় মৃত্যু হল হুলা পার্টির এক সদস্যের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্ৰাম জেলার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের আলমপুর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম দীপক মাহাত, বয়স ৩৩ বছর, বাড়ি ঝাড়গ্ৰাম ব্লকের বাঁকশোলের সিমলি গ্রামে।

জানাগেছে, এদিন বন দপ্তরের নির্দেশে হুলা পার্টির সদস্যরা গোপীবল্লভপুরের কমলাশোল বনাঞ্চল থেকে ১২টি হাতির একটি দলকে গাইড করে সুবর্ণরেখা নদী পার করতে চাইছিলেন। সেই সময় রাত ১২ থেকে ১টা নাগাদ হাতিগুলো আলমপুর গ্রামের মাঠের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় অতর্কিতে একটি হাতি ধাওয়া করে দীপক মাহাতর উপর। সেই সময় পালাতে গিয়ে দীপকবাবু পড়ে যান জমির আলে পা লাগার কারণ। তখন উন্মত্ত হাতির হানায় ঘটনাস্থলে মারা যান হুলা পার্টির সদস্য দীপক মাহাত। পরে রাতের মধ্যে বন দফতর এবং পুলিশ প্রশাসনের কর্মীরা মৃত ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান। সঙ্গে থাকা হুলা পার্টির এক সদস্য জানান, ১২টি হাতির দল তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় রাতের অন্ধকারে কোনও ভাবে পেছনে একটি হাতি থেকে গিয়েছিল তা বুঝতে না পারার কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, বেশ কয়েকবছর ধরে ঝাড়গ্ৰাম জেলা তথা জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জঙ্গলে বেড়েছে হাতির তান্ডব। খাবার এবং পানীয়ের অভাবে দলমার কয়েকটি হাতির দল একপ্রকার স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে নয়াগ্ৰাম, গোপীবল্লভপুর, সাঁকরাইলের, লালগড়, জামবনির জঙ্গলগুলোতে। যার ফলে প্রায়ই হাতির তান্ডবে এলাকার মানুষের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। মাঝে মধ্যে মানুষের প্রাণ হানি এবং হাতি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এই রকম একটি পরিস্থিতিতে বন দপ্তরের উদাসিনতার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। কারণ হাতি গাইড করার মতো সব সময় ব্যবস্থা হয় না। হলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে বন কর্মী এবং হুলা পার্টির সদস্য নেই। নেই হাতি তাড়ানোর উপযুক্ত সরঞ্জাম। কোনও কর্ম নিশ্চয়তা ছাড়া রাত বিরেতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে দুর্গম এলাকা দিয়ে হাতি তাড়াতে হয় হুলা পার্টির সদস্যদের।

অন্যদিকে বনাঞ্চলে থাকা মানুষজনের সচেতনতার অভাবে অনেক সময় জঙ্গলের হাতি অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তাই এরকম একটা পরিস্থিতিতে গোপীবল্লভপুরের আলমপুর গ্রামের মাঠে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মারা যাওয়া দীপক মাহাতর এক সঙ্গী সুভাষ মাহাত বলেন, দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ নিয়ে হাতি তাড়ানোর কাজ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে করলেও নেই কোনও স্থায়ী কাজের বন্দোবস্ত। তাই হুলা পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সকল সদস্যদের স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা করা হোক। সঙ্গে মৃত দীপক মাহাতর পরিবারকে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি তার পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হোক।

ঝাড়গ্রাম জেলার বন আধিকারিক শেখ ফরিদ বলেন, এই ঘটনাটি পুরোটাই সত্য কিন্তু প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে সে মারা গেল তার বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারি যে সমস্ত নিয়ম আছে আর্থিক সাহায্যের সবকিছুই তাঁর পরিবার পাবে। চাকরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন এই বিষয়টি তিনি জানাবেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *