আমাদের ভারত, ১৪ ডিসেম্বর: মঙ্গলবার বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি পরিচালিত সিংহবাহিনী ও বঙ্গীয় পুরোহিত সমাজের উদ্যোগে গীতা জয়ন্তী উপলক্ষে গীতা পাঠ ও যজ্ঞানুষ্ঠান হল হাওড়ার রানীহাটিতে। এই অনুষ্ঠানে এলাকার কয়েকশো মানুষ অংশগ্রহণ করে।
অর্জুনকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ৫১৫৬ বছর আগে অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লা একাদশী (যা মোক্ষদা একাদশী নামেও পরিচিত) তিথিতে কুরুক্ষেত্রে রণাঙ্গনে ভগবত গীতার জ্ঞান দান করেছিলেন। সেই শুভ তিথিকেই গীতা জয়ন্তী তিথি বলা হয়। আর গীতা জয়ন্তী উপলক্ষেই হাওড়ার রানীহাটি এলাকায় ভগবত গীতাপাঠ ও যজ্ঞানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বিজেপি নেতা তথা সিংহবাহিনী পুরোধা দেবদত্ত মাজি ও বঙ্গীয় পুরোহিত সমাজের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সারাদিন ধরে এই অনুষ্ঠানটি চলে। এলাকার মানুষ উৎসাহের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সবশেষে প্রসাদ বিতরণও করা হয়।

গীতাকে সমস্ত শাস্ত্রের সারতিসার বলা হয়। মহাভারতের ভীষ্মপর্বের (২৫ থেকে ৪২) এই ১৮ টি অধ্যায় হল ভগবদগীতা বা গীতোপনিষদ । গীতায় ৭০০ শ্লোক রয়েছে। যার মধ্যে ধৃতরাষ্ট্র ১টি শ্লোক, সঞ্জয় ৪০টি শ্লোক, অর্জুন ৮৫টি শ্লোক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ৫৭৪টি শ্লোক বলেন । আর পুরো গীতায় ৯৫৮০ টি সংস্কৃত শব্দ আছে।গীতা পড়লে ঈশ্বর, জীব, প্রকৃতি, কাল ও কর্ম সম্পর্কে জ্ঞান হয়। গীতার ১৮টি অধ্যায়ের মধ্যে প্রথম ৬টি অধ্যায়কে বলে কর্মষটক, মাঝখানের ৬টি অধ্যায়কে বলে ভক্তিষটক, আর বাকি ৬টি অধ্যায়কে বলে জ্ঞানষটক । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে মাত্র ৪০ মিনিটে এই গীতার জ্ঞান দেন । গীতাতে অর্জুনের ২২ টি নাম আর কৃষ্ণের ৪৩টি নামের উল্লেখ করা হয়েছে । গীতার ২য় অধ্যায়কে বলা হয় গীতার সারাংশ । গীতায় অর্জুন ১৬টি প্রশ্ন করেন আর কৃষ্ণ তা ৫৭৪টি শ্লোকের মাধ্যমে উত্তর দেন ।পুরো গীতার সারমর্ম মাত্র ৪টি শ্লোকে বর্ণনা করা হয়েছে, ১০ম অধ্যায়ের ৮ থেকে ১১ নং শ্লোক-এ।

