আমাদের ভারত, হাওড়া, ২৩ মে: গত বছরের আমফানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের ভ্রুকুটি। হাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা অনুযায়ী আগামী বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ঘন্টায় ১৫৫ কিলোমিটার থেকে ১৮০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড় যস আছড়ে পড়বে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই রাজ্যের একাধিক জেলায় এর প্রভাব পড়বে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও কলকাতায় যসের ব্যাপক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নিয়েছে হাওড়া গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি ব্লক প্রশাসন। ইতিমধ্যে প্রতিটি ব্লকের পাশাপাশি উলুবেড়িয়া পুরসভায় ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় জরুরি বৈঠক হয়েছে। পুরসভার পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকে পৃথক কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। জল, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, সহ সমস্ত বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিপজ্জনক গাছের ডাল কাটা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকের বিদ্যালয়গুলিতে দুর্গত মানুষদের রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাইকিং করে সকলকে সতর্ক করার পাশাপাশি নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে সকলকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি পূর্ণিমার কোটালে নদীতে জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় আমতা বিধানসভার দীপাঞ্চল ভাটোরার চিৎনান এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে নদী বাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু করেছে সেচ দপ্তর।
এই প্রসঙ্গে আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, দীপাঞ্চলের এই জায়গায় নদী বাঁধে কিছুটা ভাঙ্গন দেখা দিয়েছিল। সেচ দপ্তর কাজ শুরু করে দিয়েছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং বুধবার আমি নিজে কন্ট্রোল রুমে থেকে সমস্ত বিষয়টি মনিটারিং করব বলে জানান বিধায়ক সুকান্ত পাল।

