আমাদের ভারত, বর্ধমান,২৩ অক্টোবর: এক বন্ধু ও গাড়ির ড্রাইভারকে নিয়ে বর্ধমানের রায়নাতে দেশের বাড়ি বেড়াতে এসে খুন হলেন কলকাতার এক ব্যবসায়ী। এমনটাই অভিযোগ তার পরিবারের। অভিযোগ ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্রের কোপ দিয়ে খুন করা হয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর নাম সব্যসাচী মন্ডল(৪২)। বাড়ি হাওড়ার শিবপুর এলাকায়। গতকাল বেলার দিকে তিনি তার বন্ধু, রাঁধুনি ও ড্রাইভারকে নিয়ে দেশের বাড়ির উদ্দ্যেশ্যে রওনা দেয়। রাতের দিকে বাড়ির নিচে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। আজ শনিবার রায়না থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন সব্যসাচীর বাবা দেবকুমার মন্ডল।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সব্যসাচী মন্ডল পেশায় ব্যবসায়ী। গতকাল বেলা দশটা নাগাদ তিনি তার বন্ধু, গাড়ির ড্রাইভার ও রাঁধুনিকে নিয়ে বর্ধমানের রায়নার বাড়িতে আসেন। সন্ধে নাগাদ তিনি বেশ কিছু বন্ধুদের নিয়ে ছাদে খাওয়াদাওয়া করছিলেন। সেই সময় বন্ধুদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয়। হঠাৎ গাড়ির ড্রাইভার তাকে বলে নিচে বেশ কয়েকজন তাকে ডাকছে। সেই কথা শুনে সব্যসাচী নিচে যেতেই কেউ বা কারা তাকে গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্রের কোপ মারে। সেই আওয়াজ শুনে অন্যান্যরা নিচে গিয়ে দেখে রক্তাক্ত অবস্থায় সব্যসাচী ছটফট করছে। তাকে প্রথমে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান।
পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, সব্যসাচীকে সুপারি কিলার দিয়ে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় তার পরিবারের লোকেরা জড়িত আছে। পুলিশ সব্যসাচীর বন্ধু রাজবীর সিং, গাড়ির চালক ও রাঁধুনিকে আটক করেছে।
সব্যসাচীর বাবা দেবকুমার মন্ডল বলেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে গন্ডগোলের জেরেই তার ভাইয়ের ছেলেরা সব্যসাচীকে খুন করেছে। এর আগেও তাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায় বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে সেটা জানা যাবে। এছাড়া আরো বেশ কিছু বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

