পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, ঝাড়গ্রাম, ৬ সেপ্টেম্বর: পুজোর আগে পর্যটকদের জন্য খুশির খবর ঝাড়গ্রামে। মাত্র ২ ঘণ্টায় কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম পৌঁছে যাওয়ার জন্য ঝাড়গ্রাম স্টেশনে নতুন স্টপেজ পেল হাওড়া-বড়বিল- হাওড়া জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। বুধবার সকাল ৬টা ২০মিনিটে হাওড়া স্টেশন ছেড়ে ৮টা ২৪ মিনিটে ঝাড়গ্রাম স্টেশনে পৌঁছায় জনশতাব্দী এক্সপ্রেস।

ট্রেনটিকে স্বাগত জানাতে স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের ডিআরএম আর কে চৌধুরী, সিনিয়র কমার্শিয়াল ম্যানেজার ওম প্রকাশ সহ রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা। সঠিক সময়ে ঝাড়গ্রাম পৌছানোর সাথে সাথে জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ২ চালককে গলায় গাঁদা ফুলের মালা পরিয়ে তাঁদের হাতে ফুলের স্তবক ও মিষ্টি তুলে দেন ঝাড়গ্রামের সাংসদ কুনার হেমব্রম। ঝাড়গ্রাম স্টেশন ছাড়ার সময় সাংসদ, ডিআরএম ও রেলের অন্যান্য আধিকারিকরা জনশতাব্দী এক্সপ্রেসকে সবুজ পতাকা নাড়িয়ে আগের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য শুভকামনা জানায়।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন সকাল ৬টা ২০মিনিটে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস ছাড়বে মাত্র ২ ঘন্টা ৪ মিনিটের মধ্যেই ৮টা বেজে ২৪ মিনিটে পৌঁছে যাবে ঝাড়গ্রাম। আবার সন্ধেয় ৬টা ৮ মিনিটে ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। হাওড়া পৌছাবে রাত ৮টা বেজে ৫৫ মিনিটে।

জনশতাব্দীর প্রথম স্টপেজের দিনেই টাটানগরের বাসিন্দা ঈশিতা ঘোষ তার মায়ের সঙ্গে জনশতাব্দীতে যাচ্ছেন। ঝাড়গ্রামে জনশতাব্দীর স্টপেজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঝাড়গ্রামে জনশতাব্দীর স্টপেজ দিয়েছে খুবই ভালো লাগছে। এখানে আমাদের মামা বাড়ি, সহজে চলে আসতে পারবো এবং ফিরতেও পারবো। আগের তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেল ঝাড়গ্রামে। প্রথম দিনেই যাত্রা করছি এটা ভেবেই আমার খুব আনন্দ লাগছে”।
ঝাড়গ্রামের বিজেপি সাংসদ কুনার হেমব্রম বলেন,
“ঝাড়গ্রামের মানুষের একটি বড় চাহিদা পূরণ করতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আগামী দিনে পুরি, মুম্বাই ও নিউ দিল্লি যাবার ট্রেনগুলির স্টপেজ দেওয়ার জন্য আমি সাংসদ থেকে শুরু করে রেল মন্ত্রীকে জানিয়েছি। আগামী দিনে ঝাড়গ্রামের মানুষ এই ট্রেনগুলি উপহার পাবেন”।
ঝাড়গ্রাম শহরের কদমকানন রেল গেটে আন্ডার পাসের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, “কদমকানন রেলগেটে আন্ডার পাস তৈরির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল তা ইতিমধ্যেই পাস হয়ে গেছে কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে”।
খড়্গপুরের ডিআরএম আর কে চৌধুরী বলেন, “এখানকার সাংসদ ট্রেনের অনেকগুলি স্টপেজের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তার মধ্যে আজ একটি পূরণ হয়েছে। আগামী দিনে বাকিগুলি হবে”।

