পঞ্চায়েত ভোটের আগে মানুষের আস্থাভাজন হতে বিরাট জনসংযোগের লক্ষ্যে “দিদির রক্ষা কবচ” প্রকল্প কতটা ফলপ্রসূ হতে পারে তৃণমূলের জন্য?

আমাদের ভারত, ২ জানুয়ারি: নজরুল মঞ্চে বড় ঘোষণা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। “দিদির সুরক্ষা কবচ” নামে নতুন এক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তৃণমূল। অভিষেক বলেন, আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি শুরু হবে। ১১ তারিখ থেকে দিদির দূত হিসেবে সাড়ে তিন লাখ স্বেচ্ছাসেবক পৌছবেন প্রায় ১০ কোটি মানুষের বাড়িতে। মনে করা হচ্ছে আবাস যোজনা, ভাতা সহ একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা পাওয়া নিয়ে গ্রামের মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে, পঞ্চায়েত ভোটের আগে সেই সবকিছু সমাধানের মাধ্যমে ফের মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে রাজ্যের শাসক দলের এই বিরাট কর্মসূচির আয়োজন।

সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গল মহল হোক বা জেলার প্রত্যন্ত গ্রামের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিতরা ক্ষোভে গর্জে উঠেছেন। রাজ্যের বিরোধীরা বার বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন। সম্প্রতি আবাস যোজনা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় লেজেগোবরে অবস্থা রাজ্যের শাসক দলের নেতাদের। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেক এবং বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সরাসরি গ্রামের সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

এদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলের ঘটনাতেও চাপে পড়তে হয়েছে তৃণমূলকে। বিজেপি বার বার সরব হয়েছে, একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম বদলে রাজ্যের বলে চালানো হচ্ছে। তা নিয়ে অভিযোগ জানানোর পর প্রকল্পের টাকা বন্ধ হয়েছে। হিসাবের গড়মিলেও টাকা বন্ধ হয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে গ্রামের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের প্রকাশ ইদানিং খুব বেশি দেখা গেছে।

মনে করা হচ্ছে, পঞ্চায়েত ভোটে এই সমস্ত বিষয়ে তৃণমূলের ক্ষেত্রে বুমেরাং হতে পারে বুঝতে পেরেই জনসংযোগ বাড়াতে অভাব অভিযোগের কথা মাথা পেতে শুনতে আগে ভাগেই ঝাঁপিয়ে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। তার পোশাকি নাম “দিদির সুরক্ষা কবচ”।

পঞ্চায়েত ভোটকে পাখির চোখ করেই ১১ই জানুয়ারি থেকে দিদি সুরক্ষা প্রকল্প নিয়ে মাঠে নামতে চলেছে তৃণমূল। পঞ্চায়েত ভোটের আগে পুরোদমে জনসংযোগে নেমে পড়তে চলেছে রাজ্যের শাসক দল। এই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বড় মাত্রায় জনসংযোগ সারতে চলেছে তৃণমূল।

একটা অ্যাপ হয়েছে দিদির দূত নামে। তাতে আলাদা আলাদা প্যারামিটারে সরকারের স্কিম নিয়ে ম্যাপিং হবে। তাতে পনেরোটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প আছে। সেগুলোর পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে কিনা তা জানানো হবে। দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেছেন, ৩৬০ জন নেতা সমস্ত অঞ্চলে রাত্রি যাপন করবেন। মানুষের অভাব অভিযোগ শুনবেন। তারা চলে আসার পরে দিদির দূত যাবে, সমস্ত সুযোগ-সুবিধা মানুষ পাচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখবেন ও অ্যাপের মাধ্যমে রিপোর্ট পাঠাবেন। যে রিপোর্ট সরাসরি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেখবেন। আর যাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা যায় তার জন্য পদক্ষেপ করবেন। এভাবেই ভোটের আগে ভোটারদের মন পেতে ঝাঁপিয়ে পড়ল তৃণমূল।

তবে অনেকেই বলছেন, ২০২১ এর বিধানসভা ভোটের আগে একইভাবে ‘দিদিকে বলো’র মতো প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই এবার পঞ্চায়েতকে পাখির চোখ করে “দিদির সুরক্ষা কবচ” চালু করল তৃণমূল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *