সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৯ আগস্ট: প্রতিবেশীর গোবর গ্যাসের ট্যাঙ্কে মিললো এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ। গতকাল রাতে পুলিশ ওই মৃতদেহ উদ্ধার করার পর তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে বাঁকুড়ার শালতোড়া থানার ঢেঁকিয়া গ্রামে। মৃতার বাবা- মায়ের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য ওই ট্যাঙ্কে ফেলে দিয়েছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই মর্মে শালতোড়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বছর ছয়েক আগে পশ্চিম বর্ধমান জেলার শীতলপুর গ্রামের মোনালিসা সিংহ’কে ভালোবেসে বিয়ে করেন বাঁকুড়ার শালতোড়া ব্লকের বিষজোড় গ্রামের সৌরভ চক্রবর্তী। কাজের সুবাদে ডেলিভারি বয় সৌরভের সাথে পরিচয় থেকে প্রেম ভালবাসা, এবং পরে বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। কিছুদিন আগে সৌরভ একটি গাড়ি কেনেন। পাশের ঢেঁকিয়া গ্রামের কাজু ঘটককে সৌরভ গাড়ির চালক হিসাবে নিয়োগ করেন। এরপর গাড়ির চালক কাজুর সাথে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে মোনালিসা। মাস তিনেক আগে পালিয়ে গিয়ে কাজু ও মোনালিসা বিয়েও করে এবং ঢেকিয়া গ্রামে কাজু ঘটকের বাড়িতেই থাকতে শুরু করে। কাজু একটি টোটো কিনে চালাতে থাকে। বৃহস্পতিবার সে তার শ্বশুরবাড়িতে খবর দেয় মোনালিসাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির নাটক করার পর শুক্রবার মোনালিসার স্বামী কাজু ঘটক শ্বশুর ও শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে শালতোড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। সেই সঙ্গে নিজের বাবা সুজিত ঘটক ও মা ইতু ঘটকও নিখোঁজ বলে পুলিশকে জানায় কাজু। এরপরই রহস্য ঘনীভূত হতে থাকে। মোনালিসার বাবা অজিত সিংহ বলেন, পণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই শ্বশুর, শাশুড়ি মেয়ের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল। তার সাথে এই নিখোঁজের সম্পর্ক থাকতে পারে এমন তথ্যও পুলিশের হাতে তুলে দেন মোনালিসার বাবা ও মা।

ঘটনার তদন্তে নেমে প্রথমেই মোনালিসার শ্বশুর শাশুড়ির খোঁজ শুরু করে পুলিশ। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মোনালিসার স্বামী কাজু ঘটককেও। শেষ পর্যন্ত পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে কাজু জানায়, তার বাবা ও মা বিষ্ণুপুর থানার হিংজুড়ি গ্রামে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছে। সেখানে হানা দিয়ে মৃতার শ্বশুর শাশুড়িকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তারা সব স্বীকার করে। তার ভিত্তিতে পুলিশ ঢেকিয়া গ্রামে হানা দিয়ে তাদের প্রতিবেশীর গোবর গ্যাসের একটি ট্যাঙ্ক থেকে দেহ উদ্ধার করে।
আজ সকালে দেহটি ময়না তদন্তের জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় শ্বশুর সুজিত ঘটক, শাশুড়ি ইতু ও স্বামী কাজু ঘটককে গ্রেফতার করে বাঁকুড়া আদালতে পাঠানো পাঠিয়েছে পুলিশ।

