চাঁচোলে আগুনে ভস্মীভূত গোটা বাড়ি, পুড়লো লক্ষাধিক নগদ টাকা, খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই অসহায় কৃষক পরিবারের

আমাদের ভারত, মালদা, ১৮ নভেম্বর: পাকা বাড়ি করার জন্য ঘরে মজুত করে রাখা ছিল মোটা অঙ্কের টাকা, কিন্তু পাকা বাড়ির স্বপ্ন আর পূরণ হল না কৃষকের। বাড়ি নির্মাণের আগেই বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেল সবকিছু। বাড়িতে মজুত থাকা সোনার অলঙ্কার সহ দানা শস্য আসবাবপত্র সমস্ত কিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেল। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদহের চাঁচলের থাহাঘাটি এলাকায় আজামুদ্দিন নামে এক কৃষকের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। আগুন ভস্মীভূত হয়ে যায় তিনটি ঘর। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ওই এলাকায়।

জানা যায়, চাঁচলের থাহাঘাটি এলকার বাসিন্দা আজামুদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ধানের জমিতে ধান তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। ওই সময় গ্রামের লোকেরাই মাঠে গিয়ে খবর দেন তার বাড়িতে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে বাড়িতে ছুটে গিয়ে দেখেন আগুনের লেলিহান শিখা তার গোটা বাড়িকে গ্রাস করে নিয়েছে। প্রতিবেশীরা সেই আগুন নেভাতে ব্যস্ত। খবর দেওয়া হয় দমকলে। চাঁচল থেকে দমকলের একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলে গ্রামবাসীরা। তবে এদিন আগুন লাগার ঘটনায় ঘরের মধ্যে থাকা মজুদ কোনও কিছুই বাঁচাতে পারেননি ওই কৃষক। সমস্ত কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। নতুন বাড়ি করবে বলে ঘরের মধ্যে মোটা অঙ্কের টাকা রেখেছিলেন ওই কৃষক। কৃষকের পাকা বাড়ির স্বপ্ন আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেল এদিন। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে কিছুই বুঝতে পারছেন না ওই কৃষক ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

কৃষকের পুত্রবধূ শিউলি খাতুন জানান, আমার স্বামীও বাড়ির সদস্যরা জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎই আমাদের প্রতিবেশীরা খবর দেয় বাড়িতে আগুন লেগেছে। তড়িঘড়ি এসে দেখি বাড়িতে দাও দাও করে আগুন জ্বলছে। দমকলে খবর দিলেও দমকল ২ ঘন্টা দেরিতে আসে। ততক্ষণে প্রতিবেশীরাই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আমার স্বামী বাড়ি করার জন্য ঘরে এক লাখ নগদ টাকা রেখেছিলেন সেই টাকাও পুড়ে যায়। তার পাশাপাশি আসবাবপত্র, খাদ্যশস্য সহ সবকিছুই পুড়ে গেছে। এখন আমরা খোলা আকাশের নীচে এসে দাঁড়িয়েছি। প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি সরকারি সাহায্যের।

যদিও চাঁচলের ১ নং ব্লকের বিডিও সমিরণ ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পরিবারটি সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করুক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম সাহায্য করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *