Sukanta Majumder হাউস অ্যারেস্ট সুকান্ত মজুমদার, হাওড়া যাওয়ার আগেই আটকে দেওয়া হলো রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে

আমাদের ভারত, ১১ জুন:
শনিবার হাওড়ায় বিজেপি পার্টি অফিসে ভাঙ্গচুর এবং আগুন লাগানোর পরবর্তী পরিস্থিতি দেখতে যাওয়ার আগেই নিউটাউনে ‘গৃহ অন্তরীণ’ বা হাউস অ্যারেস্ট করা হল বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে। তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে মুচলেকা দিতে বলেছে পুলিশ বলে অভিযোগ। রাজ্য পুলিশ তাঁর সঙ্গে অন্যায় করেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সুকান্ত মজুমদার।

শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি-র দলীয় অফিস ভাঙ্গচুর করা হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন দলীয় কর্মীরাও। তাই সন্ধ্যার পরেই ঘোষণা করা হয়, শনিবার বেলা ১১টায় সুকান্ত মজুমদার হাওড়ার রঘুদেব ও মনসাতলা দলীয় অফিস দেখতে যাবেন। সেই অনুযায়ী আলাদাভাবে হাওড়ায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন দলের আইনজীবী নেত্রী প্রিয়ঙ্কা টিব্রেওয়ালও। ফোনে তিনি সুকান্তবাবুর কাছ থেকে জানতে পারেন পুলিশ তাঁকে বাড়িতে আটকে রেখেছে। প্রিয়াঙ্কা এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকদের কাছে। তাঁকেও হাওড়া যাওয়ার পথে আটকে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ছবি: সুকান্ত মজুমদারের বাড়ির সামনে পুলিশ প্রহরা।

পরে সুকান্তবাবু একটি ভিডিও-সহ টুইটারে লিখেছেন, “রাজ্যের পুলিশ আমাকে বাড়িতে আটক করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঙ্গাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা যে দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক। মুখ্যমন্ত্রীকে দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং তুষ্টিকরণ বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। তাঁর নির্দেশে, রাজ্য পুলিশ আমাকে বাড়িতে গ্রেপ্তার করেছে। দিদি, বাংলার লোকদের সম্পত্তি ধ্বংস করে এবং রাজ্যে শান্তি বিঘ্নিত করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, বিজেপি নেতাদের গৃহবন্দী নয়। হানাদারদের কাছে আপনার সুরক্ষা আগুনে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে।”

একই সঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, তাঁকে বাড়ি থেকে বেরোনোর শর্ত হিসেবে মুচলেকা দিতে বলেছে পুলিশ, যেটা করতে তিনি রাজি হননি। কারণ তার আইনি পরামর্শদাতারা তাঁকে জানিয়েছেন এই কাজ প্রশাসন করতে পারে না। এটা অনৈতিক ও আইন বিরুদ্ধ। সুকান্ত মজুমদার বলেন, তিনি মুচলেকা দেবেন না। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি আদালতে যাবেন। আইনি পথে গণতন্ত্রের পথে তিনি এই লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং হাওড়ার মনসা তলায় তিনি যাবেন।

প্রসঙ্গত, বিজেপি মুখপাত্র নূপুর শর্মার বিতর্কিত মন্তব্যে বৃহস্পতিবার থেকে দফায় দফায় অবরোধ, বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। পথ অবরোধের পাশাপাশি রেল অবরোধ, ভাঙ্গচুর এবং আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটে। আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ কর্মীরা। সোমবার পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে উলুবেড়িয়ায়। ১৫ জুন পর্যন্ত যেকোনো জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *