ভালো ফলের আশায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি বদল বাঁকুড়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৩ নভেম্বর: সরকারিভাবে লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক দলগুলি প্রস্তুতি শুরু করেছে। এরাজ্যে শাসক দল কিছুটা হলেও বেকায়দায়। তার উপর গত লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুটি আসনেই বিজেপির কাছে হার। এই অবস্থায় তুল্যমূল্য লড়াইয়ের জন্য যোগ্য কান্ডারীর খোঁজ। বাঁকুড়া জেলায় ভালো ফল লাভ করতে জেলার সভাপতি বদল করলো তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

গোটা রাজ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে দুর্নীতিকারীদের ধরছে ইডি, সিবিআই। দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সহ অনুব্রত মন্ডলের মত দক্ষ সাংগঠনিক নেতা দীর্ঘদিন জেলে বন্দি। জেলবন্দি রয়েছেন আরও একাধিক বিধায়ক, নেতা ও আধিকারিক। পাশাপাশি গোষ্ঠী কোন্দলে জেরবার গোটা তৃণমূল দলটাই। এই অবস্থায় সভাপতি বদলের সাথে সভাপতিদের মাথায় আবার একজন করে চেয়ারপার্সন বসানো হয়েছে। বিজেপির মত বাঁকুড়া জেলাকে লোকসভা ভিত্তিক দুটি সাংগঠনিক জেলায় ভাগ করেছে তৃণমূল। বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন সিমলাপালের দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র এবং বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ছিলেন বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জি। বাঁকুড়ায় সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিক প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি ও আইনজীবী সেলের নেতা তথা বর্তমান তালডাংরার বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী। তিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদও দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন। দলে সাংগঠনিক নেতা হিসেবে একটা ভাবমূর্তি রয়েছে অরূপ চক্রবর্তীর। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন দলনেত্রী সব দিক বিবেচনা করেই তাকে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। জেলার চেয়ারপার্সন নিযুক্ত হলেন বাঁকুড়া পৌরসভার চেয়ারম্যান অলকা সেন মজুমদার। তিনিও দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ। জেলার প্রতিটি অঞ্চল হাতের তালুর মত চেনেন। পুরসভাও চালাচ্ছেন বেশ দক্ষতার সঙ্গেই।

অন্যদিকে বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বড়জোড়ার বিধায়ক অলক মুখার্জিকে। তার জায়গায় এলেন বিক্রমজিৎ চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু অলক মুখার্জিও দক্ষ সাংগঠনিক নেতা হিসেবেই উঠে এসেছেন রাজনীতিতে। নয়ের দশকে বামফ্রন্টের লাল দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাঁকুড়া জেলায় শিল্পাঞ্চলের ক্ষমতা দখলে রেখে পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন দুটো পঞ্চায়েত নির্বাচনে এবং দলের পঞ্চায়েতও হাতছাড়া হতে দেননি। এ হেন নেতাকে সভাপতি থেকে সরিয়ে একটি সান্ত্বনা পুরস্কারের মত আলংকারিক পদ চেয়ারপার্সন করা হল কেন এ বিষয়ে দলেরই একাংশ মনে করছেন বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলায় তার বিরুদ্ধে সমান্তরাল ভাবে একটি গোষ্ঠী রয়েছে তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই। পাশাপাশি উপ গোষ্ঠীতে ভরে উঠছিল দল। সভাপতি বদল করে ভালো ফলের আশায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *