স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৫ ফেব্রুয়ারি: এখানে হিটলারগিরি রাজতন্ত্র চলে না, এটা মা মাটি মানুষের সরকার। মানুষকে বুঝে কাজ করতে হবে। এখানে গ্রামবাসীদের আস্থা নিয়েই কাজ করতে হবে জাতীয় সড়ককে। রায়গঞ্জের বিডিও’কে শুধু ধমকই নয়, ঘুরিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই আক্রমন করলেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। বিডিওর অপরাধ, বিধায়কে না জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ধর্মস্থানের জন্য থমকে যাওয়া রায়গঞ্জ বাইপাসের ফোরলেনের কাজ তরান্বিত করতে যাওয়া।
রায়গঞ্জের মধুপুর এলাকায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারনের জন্য একটি মন্দির সরানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চলছে জটিলতা। শনিবার, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথারিটি অফ ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মন্দির সরিয়ে রাস্তা তৈরির কাজ করতে গেলে এক মহিলার উপর মা কালী ভর করে বলে দাবি স্থানীয়দের। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের দাবি, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের না জানিয়ে ওই মন্দির সরাতে চাইছিলো তাই গ্রামবসীরা বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি পূজা অর্চনা শুরু হয়। অবিলম্বে মন্দির তৈরির জন্য ব্যতিক্রমী জায়গায় ব্যবস্থা না হলে এই সমস্যার সমাধান আর হবে না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মন্দির সরাতে গিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়েন রায়গঞ্জের বিডিও, আইসি সহ প্রশাসনের কর্তারা।
এই জায়গায় জাতীয় সড়কের কাজ আটকে থাকার কারণে কলকাতা- শিলিগুড়ি সড়কের কাজ আটকে রয়েছে। সেই কাজ করাতে গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে করার চেষ্টা করেন রায়গঞ্জের আইসি এবং বিডিও। কিন্তু রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী ঘটাস্থলে গিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে যুক্ত হওয়ার পর মন্দিরের জন্যে জায়গা ছেড়েই কাজ করতে হবে বলে দাবি ওঠে। বিধায়ককে না জানিয়ে আলোচনা করার জন্যে ধমকের সুরে বিডিও বলেন, কেন বিধায়ককে জানানো হয়নি। এরপর গ্রামবাসীদের সাথে আলোচনায় বিধায়ক বলেন, এই মন্দিরের সাড়ে পাঁচ শতক অক্ষত রেখেই কাজ করতে হবে। যে জায়গায় দেবীস্থান রয়েছে তা ওখানেই থাকবে।

