সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৪ জুলাই: আদ্রায় ধনঞ্জয় চৌবের খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হল ‘শার্প শ্যুটার’। ধৃতের নাম রত্নেশ কুমার পাণ্ডে। সে বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার কেটিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি জানান, “পুলিশের পাঁচ সদস্যের একটি দল খোঁজ পেয়ে বিহারে যায়। সেখানে স্থানীয় পুলিশের সাহায্যে তাকে ধরা হয়। পেশায় ট্রাক্টর চালক হলেও প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে ভাড়াটে খুনি সে।” বছর আটাশের ছিপছিপে ওই যুবক মোটর সাইকেলে চেপে ঘটনাস্থলে যায়। সেই ছবি ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। এখন ধৃত ওই ভাড়াটে খুনি ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২২ জুন খুন হন আদ্রার তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ধনঞ্জয় চৌবে। পরের দিনই গ্রেফতার হয় আরশাদ হোসেন ও মহম্মদ জামাল নামে দুই স্থানীয় কুখ্যাত দুষ্কৃতি। ২৫ জুন তদন্তের গতি আনতে সিট গঠন করা হয়। ২৭ জুন খুনের মাস্টার মাইন্ড আরজু মালিক নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এখনও দুইজন শুটার অধরা বলে মনে করছে পুলিশ।

২২ জুন রাতে আদ্রা শহরে তৃণমূল কার্যালয়ে গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা ধনঞ্জয় চৌবে। এই ঘটনায় ২৩ জুন দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একজন আরশাদ হোসেন এবং অপরজন মহম্মদ জামাল। আরশাদ ছিলেন পঞ্চায়েতের কংগ্রেস প্রার্থী। আর মহম্মদ জামাল এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী। দুজনই আদ্রার বাসিন্দা। এরপর ২৭ জুন খুনের মাস্টারমাইন্ড তথা আদ্রার সিন্ডিকেটের মাথা আরজু মালিক গ্রেপ্তার হয় বিহারের জামুই জেলার আরসার থেকে। এবার সেই বিহার থেকে ভাড়াটে খুনিকে গ্রেপ্তার করা হল। পুলিশের অনুমান, সেখানে রত্নেশকে ‘সুপারি’ দিয়েছিলেন আরজু।
জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধনঞ্জয় চৌবের খুনের আগে সিসিটিভি ফুটেজে রত্নেশের ছবি ধরা পড়েছিল। বাইকে চেপে তাকে ধনঞ্জয়ের কার্যালয়ের দিকে আসতে দেখা গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, বাকি দুই ভাড়াটে খুনি কার্যালয়ের কাছেই রত্নেশের অপেক্ষা করছিল। তাদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

