Mohan Bhagwat, RSS, হিন্দুত্ব হলো নিরাপত্তার গ্যারান্টি: মোহন ভাগবত

আমাদের ভারত, ৮ ফেব্রুয়ারি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান শনিবার বলেছেন, ভারতে বসবাসকারী প্রত্যেকেই হিন্দু। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই শব্দটি কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে দেশের সভ্যতা ও নীতিকে প্রতিফলিত করে। মুম্বাইয়ে সংঘ যাত্রার ১০০ বছর শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভাগবত বলেন, হিন্দু কোনো বিশেষ্য নয় বরং এটা একটা বিশেষণ, যা ভারতের সংস্কৃতিক প্রকৃতিকে বর্ণনা করে।

মুম্বাইয়ের নেহেরু স্টেট সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অভিনেতা সালমান খান, চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই এবং গীতিকার প্রসূন যোশী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ভাগবত বলেন, আপনি যদি ভারতীয় হন তবে এই প্রকৃতি আপনার মতে সহজাত। তিনি দাবি করেন, মুসলমান ও খ্রিস্টানরা দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। মোহন ভাগবত বলেন, ভারত বিশ্ব নেতৃত্বে আসবে বাগারম্ভর দিয়ে নয় বরং উদাহরণ তৈরি করে।

তিনি দেশের হিন্দুদের চারটি প্রধান বিভাগে ভাগ করে তাদের ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে প্রথম গোষ্ঠীতে তারাই অন্তর্ভুক্ত যারা গর্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে নিজেদের হিন্দু বলে পরিচয় দেন। দ্বিতীয় গোষ্ঠীতে রয়েছেন যারা নিজেদের হিন্দু বলে স্বীকার করেন কিন্তু এর মধ্যে কোনো অসাধারণ কিছু দেখেন না। তৃতীয় শ্রেণিতে তারা অন্তর্ভুক্ত যারা কেবল ব্যক্তিগতভাবে তাদের পরিচয় নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করেন। চতুর্থ হলেন যারা হিন্দু পরিচয় ভুলে গিয়েছেন অথবা তাদের ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরএসএস প্রধান ভারতের বিভাজনকে হিন্দু ভাব বা হিন্দু অনুভূতির ক্ষয়ের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে দেশভাগ হয়েছিল। আমরা বলেছিলাম যে, আমরা সমস্ত ধর্মকে সম্মান করি, কারণ আমরা হিন্দু। তাঁর মতে মতপার্থক্য এবং মাঝে মাঝে উত্তেজনা সত্ত্বেও ভারত তার সভ্যতাগত মূল্যবোধের কারণে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

ভাগবত জোর দিয়ে বলেন, যে হিন্দুত্বকে গ্রহণ করার জন্য কাউকে নিজের বিশ্বাস, ভাষা ও সংস্কৃতি প্রথা ত্যাগ করতে হবে না। তাঁর কথায়, হিন্দুত্ব গ্রহণ করলে আপনি কিছুই হারাবেন না। আপনার ধর্মীয় রীতিনীতিও নয়। আপনার ভাষাও নয়। হিন্দুত্ব হলো নিরাপত্তার গ্যারান্টি।

আরএসএস প্রধানের মতে, মানুষের বিশ্বাস, খাদ্যাভ্যাস ও ভাষার দিক থেকে ভিন্ন হলেও তারা একটি সমাজ এবং একটি জাতি হিসেবে থাকে। তাঁর কথায়, আমরা একে হিন্দুত্ব বলি। আপনি একে ভারতীয়তা বলতে পারেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বোঝান, হিন্দু- মুসলিম ঐক্য শব্দটি বিভ্রান্তিকর, কারণ ঐক্য শব্দটি বিভাজনকে পূর্বনির্ধারিত করে।

ধারণা ভিত্তিক সমালোচনার পরিবর্তে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে ভাগবত বলেন, আরএসএসকে প্রচারের মাধ্যম নয়, বরং সরাসরি সংলাপের মধ্যে দিয়ে বোঝা উচিত। যদি তথ্যের বিরুদ্ধে কোনো বিরোধিতা থাকে আমরা নিজেদের শুধরে নেব। কিন্তু তথ্য জানতে হলে আপনাদের আমাদের কাছে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *