আমাদের ভারত, ২৫ জানুয়ারি: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার থামার কোনো নাম গন্ধ নেই। আবারও এক হিন্দু যুবককে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে সেখানে। জীবন্ত অবস্থায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের নরসিংদীতে চঞ্চল ভৌমিক নামে বছর ২৩- এর এক হিন্দু যুবককে।
শুক্রবার রাতে দোকানের ভিতর ঘুমাচ্ছিলেন ওই যুবক। সেই সময় দুষ্কৃতীরা দোকানের বাইরে থেকে শাটার টেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত চঞ্চলের পুড়ে মৃত্যু হয়নি ততক্ষণ পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল। এই ঘটনায় আবারও একবার প্রমাণিত হলো বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এবং সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে ইউনুস সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ।
সূত্রের খবর, ২৩ জানুয়ারি ঘটনাটা ঘটেছে নরসিংদীর পুলিশ লাইন এলাকার খানা বাড়ি মসজিদ মার্কেট এলাকায়।
ওই যুবকটি একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।নিহত যুবকটির বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। চঞ্চলের বাবা নেই। বাড়িতে মা রয়েছে, বিশেষভাবে সক্ষম বড় দাদা ও ছোট ভাই রয়েছে। চঞ্চলই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ছেলে ছিল।
বিগত ছয় বছর ধরে ওই গাড়ি ও বাইকের ওয়ার্কশপে কাজ করতো সে এবং রাতে ওখানেই ঘুমাতো। শুক্রবার রাতেও ওই যুবক ঘুমিয়ে ছিল দোকানের ভেতরে। সেই সময় দুষ্কৃতীরা দোকানের শাটার টেনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। জ্বলন্ত অবস্থায় দোকানের ভেতর চিৎকার করতে থাকে ওই যুবক। কিন্তু শাটার বাইরে থেকে বন্ধ থাকায় ঐ যুবক বেরিয়ে আসতে পারেনি।
প্রায় পনের মিনিট পর শাটার খুলে দেয় দুষ্কৃতীরা। তখন বাইরে এসে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে সম্পূর্ণ দগ্ধ হয়ে যায় যুবকটি। জ্বলন্ত অবস্থায় বাঁচার জন্য যুবকটি চিৎকার করলেও কেউ ছুটে আসেনি। দুষ্কৃতীরা বাইরে দাঁড়িয়ে তার মর্মান্তিক মৃত্যু দেখেছে।
নরসিংদীতে পুলিশ লাইনের পাশে ঘটা এই ঘটনা সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা গেছে চঞ্চলকে পুড়িয়ে মারার পর দুষ্কৃতীরা নিশ্চিন্তে হেঁটে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও গ্যারেজের মালিক জানিয়েছেন, চঞ্চল খুব সাধারণ, সৎ ছেলে ছিল।কারো সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না তার। পরিবার ও প্রতিবেশীদের দাবি, পরিকল্পনা করে চঞ্চলকে খুন করা হয়েছে।ধর্মীয় বিদ্বেষের জেরে তাকে এত নির্মম ভাবে মারা হয়েছে।
বাংলাদেশে একের পর এক হিন্দুদের উপর অত্যাচার চলছে। গত বছরের শেষ দিকে দিপু চন্দ্র দাস নামক এক যুবককে পিটিয়ে গাছে ঝুলিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে সেখানে। ভারত সরকারের তরফে একাধিকবার হিন্দুদের নিরাপত্তার দাবি জানানো হলেও ইউনুস সরকার যে কোনো পদক্ষেপে করেনি তার উদাহরণ চঞ্চলের এই ভয়াবহ হত্যার ঘটনা।

