আমাদের ভারত, ২৬ ডিসেম্বর: এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এবার একেবারে হিন্দুদের ভাবাবেগে সরাসরি আঘাতের অভিযোগ উঠল অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রভাবশালী অনগ্রসর জাতির নেতা তথা স্বামী প্রসাদ মৌর্যর বিরুদ্ধে। তিনি হিন্দু তথা সনাতন ধর্মকে ধোঁকা বলেছেন। বছর দু’য়েক আগে এই স্বামী প্রসাদ মৌর্য বিজেপি ও যোগী আদিত্যনাথ মন্ত্রিসভা ছেড়ে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। এবার সরাসরি হিন্দু তথা সনাতন ধর্মকে ধোঁকা বলার অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে যন্তর মন্তরে বহু জনসমাজ অধিকার সম্মেলনে স্বামী প্রসাদ বলেন, হিন্দু কোনো ধর্ম নয়, ধোঁকা। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, হিন্দু বলে কোনো ধর্ম নেই, এটি একটি জীবনধারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, হিন্দুত্ব বলে কোনো ধর্ম নেই। ওরা যখন এমন কথা বলেন তখন কারো ভাবাবেগে আঘাত হয় না। স্বামী প্রসাদ বললেই বিতর্ক হয়।”
ওই মন্তব্যের পর বিতর্ক তৈরি হলেও পিছু হটেননি স্বামী প্রসাদ। তাঁর দাবি, ৯০ দশকে সুপ্রিমকোর্টও বলেছে হিন্দু কোনো ধর্ম নয়।
আগামী ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রাম মন্দির উদ্বোধন, আর তার আগেই সমাজবাদী পার্টির প্রথম সারির নেতার এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। লোকসভা ভোটের আগে অখিলেশ যাদব উত্তর প্রদেশের অনগ্রসর সংখ্যালঘু ভোটের পাশাপাশি উচ্চবর্ণের সমর্থন পেতে সক্রিয় হয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে রাজ্যজুড়ে ব্রাহ্মণ সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন তিনি। সেখানে স্বামীপ্রসাদের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ব বিরোধী মন্তব্য নিয়ে অভিযোগ শুনতে হয়েছে তাকে। প্রবুব্ধ সমাজ ও মহা ব্রাহ্মণ সমাজের সভায় অখিলেশ কারো নাম না করে বলেন, “আমরা কোনো ধর্ম বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনরকম মন্তব্য সমর্থন করি না।”
কয়েক মাস আগে স্বামী প্রসাদ বলেছিলেন, রামচরিত মানস নিজের আনন্দ ও প্রশংসা পাওয়ার জন্য লিখেছিলেন তুলসীদাস। সব ধর্মকে আমি শ্রদ্ধা জানাই কিন্তু সেখানে ধর্মের নামে দলিত আদিবাসী এবং অনগ্রসর শ্রেণির মানুষকে গালাগালি দেওয়া হয়েছে। জাতির কথা বলে শূদ্র বলে কেন গালি দেওয়া হয়েছে? গালি দেওয়াটা কি ধর্ম? সেই সময় তারও এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক হয়েছিল।
এক সময় মায়াবতী ঘনিষ্ঠ স্বামীপ্রসাদ দু’দফায় উত্তর প্রদেশের বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ছিলেন। টানা তিনবার বিধানসভা ভোটে জিতেছেন তিনি। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটের আগেই তিনি বিএসপি ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৭- র বিধানসভা ভোটে জিতে যোগী সরকারের শ্রম এবং জনকল্যাণ মন্ত্রীও হয়েছিলেন। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে স্বামী প্রসাদের মেয়ে সংঘমিত্রা বদাঁয়ু কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। এখনো তিনি বিজেপির সাংসদ। সোমবার যদিও নিজের বাবার এই মন্তব্যের নিন্দা করেছেন সংঘমিত্রা। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন স্বামীপ্রসাদ। কিন্তু উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা ভোটে কুশিনগর জেলার ফাজিল নগর আসনে লড়ে বিজেপির কাছেই হেরে যান তিনি।

