আমাদের ভারত, ৬ আগস্ট: ফের পাকিস্তানে হিন্দু মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটলো। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রহিম ইয়ার খান জেলার ভঙ্গ শহরে গণেশ মন্দিরে হামলা চালিয়েছে একদল উন্মত্ত মুসলিম যুবক বলে অভিযোগ। এমনকি মন্দির পার্শ্ববর্তী হিন্দুদের বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করা হয়েছে বলে খবর। ভাঙ্গচুর করার ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারত সরব হতেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয় ইমরান খান সরকার।
বুধবার পাঞ্জাব প্রদেশের ওই গণেশ মন্দিরে হামলা করে ভাঙ্গচুর চালানোর পর মন্দিরের একাংশ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ভেঙ্গে ফেলা হয় মন্দিরে থাকা মূর্তি। একদল উত্তেজিত মুসলিম জনতা এই কাজ করেছে বলে অভিযোগ। লাহোর থেকে ৫৯০ কিলোমিটার দূরে ভঙ্গ শহরের মন্দিরে এই হামলা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান রেঞ্জার্সকে খবর দিতে হয়েছে। আপতত ওই এলাকায় সেনা মোতায়েন রয়েছে।
গত সপ্তাহে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় বলে খবর। একটি বছর আটেরশিশু মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে প্রস্রাব করে ফেলে। আর তা থেকেই অশান্তি শুরু। হিংসার আগুন ছড়ায় শহরে। বুধবার মন্দিরে হামলার এই ভিডিও পোস্ট করেন তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির সাংসদ রমেশ কুমার ভাঙ্কওয়ানি। প্রশাসনকে তিনি এই হামলা আটকানোর আবেদন জানান। টুইটে তিনি লেখেন, মন্দিরে হামলা রুখতে ঢিলেমি দেখিয়েছে পুলিশ, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। এলাকায় টেনশন রয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছি। এলাকায় শান্তি বজায় রাখুন। অবিলম্বে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে প্রধান বিচারপতির কাছেও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মন্দির সংলগ্ন এলাকায় পাকিস্তান রেঞ্জার্স আনা হলেও ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। স্থানীয় জেলা পুলিশ আধিকারিক জানান, ওই এলাকায় কমপক্ষে ১০০ হিন্দু পরিবারের বাস। এই ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া প্রশাসনের অন্যতম কাজ।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বাইরে থেকে একদল উন্মত্ত মুসলিম ইট-পাথর, লাঠি হাতে মন্দিরে ঢোকে। বাইরে থেকে ভাঙ্গচুর করা শুরু করে তারা। এরপর হামলাকারিরা মন্দিরের ভিতরে চারিদিকে ভাঙ্গচুর করার সময় দেবতার মূর্তিও ভেঙ্গে ফেলে।
It is very sad & unfortunate incident. PM office took notice of this untoward incident & directed district administration to probe the case & take strict action against the culprits.Pakistani constitution provides freedom & protection to minorities to perform their worship freely https://t.co/RuLOe69VSb
— Dr. Shahbaz GiLL (@SHABAZGIL) August 4, 2021
ওদিকে আবার গত সপ্তাহের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল মাত্র আট বছরের ওই শিশুটিকে। নাবালক হওয়ায় তাকে পরে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।
ঘটনায় নিন্দা সরব হয় ভারত। ইমরান খান সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ অভিযোগ করে নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচী বলেন, হিন্দু মন্দির ও তার আশপাশের বাড়িতে হামলা এই হিংসার ঘটনা সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচারের প্রমাণ। দিন প্রতিদিন পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মস্থানের উপর হামলা বেড়ে যাচ্ছে। ধর্ম ও ধর্মস্থান রক্ষা করতে ব্যর্থ পাকিস্তান সরকার। ঘটনার নিন্দা করে এদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি আধিকারিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত। ইমরান প্রশাসন সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি। তারপরই নড়েচড়ে বসে ইমরান সরকার।
It was a live show and it's clear who was running live show on fb but who will take action??where are security forces?? Who is heading these people?? pic.twitter.com/6VCLHbOe6D
— DrPhysiohon😍 (@bheeshamk7121) August 4, 2021
ইমরান খান টুইটে লিখেছেন, “পাঞ্জাব প্রদেশের গণেশ মন্দিরে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা করছি। আইজি পাঞ্জাবের সঙ্গে কথা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। পুলিশের তরফে কোনো গাফিলতি হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। সরকার মন্দিরটি আবার নির্মাণ করবে।”
যদিও পাকিস্তানের মন্দিরে হামলা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যচার নতুন ঘটনা নয়। গত বছর একটি হনুমান মন্দিরে হামলা করে ভাঙ্গচুর করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মন্দির সংলগ্ন বেশ কিছু হিন্দু বাড়িতেও হামলা চালানোর ঘটনা সামনে উঠে এসেছিল।

