ইজরায়েলের সমর্থনে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বনহুগলি থেকে ডানলপ পর্যন্ত মিছিল

আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ২১ নভেম্বর: ইজরায়েলের সমর্থনে পথে নামল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। বিটিরোডের বনহুগলি থেকে ডানলপ মোর পর্যন্ত এক বিশাল মিছিল করে তারা। মিছিল শেষে ডানলপে একটি পথসভা হয়। শিশু এবং মহিলা সহ যেসব ইজরায়েলিদের উগ্রপন্থী হামস বন্দি করে রেখেছে তাদের মুক্তির দাবিতে এই মিছিল করে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ।

গত ৭ নভেম্বর হামাস জঙ্গিরা অতর্কিতে হামলা চালিয়ে প্রায় বারোশো নিরীহ ইজরায়েলিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এদের মধ্যে বহু শিশু এবং মহিলা ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ২৫০ জন শিশু, নারী, পুরুষকে বন্দী করে প্যালেস্টাইনে নিয়ে গেছে। এই হতভাগ্যরা একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময়ই হামাস জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল। সেই অপহৃত বন্দিদের উদ্ধার করতে পাল্টা আক্রমণে নেমেছে ইজরায়েল। ৪৫ দিন ধরে যুদ্ধ চললেও এখনও বন্দিদের মুক্ত করতে পারেনি ইজরায়েলি সেনা।

ইজরায়েলের এই পালটা আক্রমণের বিরোধিতা করে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ চলছে। ভারতেও বিভিন্ন সংগঠন ইজরায়েলের বিরোধিতা করছে। পশ্চিমবঙ্গেও বামপন্থীরা ফিলিস্তিনিদের সর্থনে মিছিল মিটিং করছে। তবে এবার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার কলকাতা লাগোয়া এলাকায় দেখা গেল উল্টো চিত্র। ইজরায়েলের সমর্থনে মিছিল করল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। সোমবার সকালে বিটিরোডের বনহুগলি থেকে বিশাল মিছিল করে। এই মিছিল শেষ হয় ডানলপ মোরে। সেখানে একটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণ বঙ্গের প্রান্ত সংযোজক দেবাশিস চক্রবর্তী এবং ব্যারাকপুরের সংযোজক রোহিত সাউ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন, বিজেপি নেতা অরিজিৎ বক্সি এবং মহাদেব বসাক।

বিজেপির কলকাতা উত্তর শহরতলীর জেলা সভাপতি অরিজিৎ বক্সী বলেন, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ সম্পূর্ণভাবে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, কিন্তু বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ যেভাবে মাথা চাড়া দিয়েছে তাতে এখানে আসতে বাধ্য হয়েছি। তিনি ইজরায়েলে হামাস জঙ্গিদের হামলার সঙ্গে বাংলাদেশের নোয়াখালী দাঙ্গার তুলনা করে বলেন, “সন্ত্রাসবাদের অস্র এবং রূপ পাল্টেছে কিন্তু মানসিকতা পাল্টায়নি।” অরিজিতবাবু বলেন, ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন হাজার হাজার হিন্দু মহিলা, পুরুষকে হত্যা করা হয়েছিল। বহু হিন্দু মা বোনকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। ইজরায়েলেও সেই একই ভাবে হামলা চালিয়েছে হামাস জঙ্গিরা।” তিনি বলেন, “এখন সন্ত্রাসবাদে ব্যবহৃত অস্ত্র পাল্টেছে এবং রূপ পাল্টেছে, কিন্ত মানসিকতার বদল হয়নি। নোয়াখালীর মত ইজরায়েলে একটি মিউজিক ফেস্টিভ্যালে নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালিয়েছে।” পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রপুঞ্জেরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপুঞ্জ যে রেজুলেশন নিয়েছে তাতে হামাসের ন্যক্কারজনক হামলার জন্য একটি শব্দও ব্যবহার করেনি।”

তিনি বলেন, হামাস যদি ২৪০ জন শিশু মহিলাকে মুক্তি দিত তাহলে এই যুদ্ধ হতো না এবং প্যালেস্টাইনেও মৃত্যু হতো। উলটে হামার জঙ্গিরা এবার হুমকি দিয়েছে ইজরায়েল যদি তাদের বন্দিদের না ছাড়ে তাহলে তারা প্রতিদিন একজন করে বন্দিকে গলা কেটে হত্যা করবে এবং সেই ভিডিও প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেবে। হামাসরা যেভাবে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে তার নিন্দা করে রাষ্ট্রপুঞ্জকে রেজোলিউশন নিতে হবে।”

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের নেতা রোহিত সাউ বলেন, হামস যেভাবে ইজরায়েলীদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, তা নপুংসকদের কাজ। ইজরায়েল ভারতের সবথেকে পুরনো বন্ধু। তাই ইজরায়েলের সমর্থনে আমরা পথে নেমেছি।”

হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গের সংযোজক দেবাশীস চক্রবর্তী বলেন, “হামাস জঙ্গিরা যেভাবে সাধারণ মানুষকে ঢাল করে তাদের মুক্তিপণ হিসেবে ব্যবহার করছে আমরা তার কড়া নিন্দা করি। তিনি বলেন, হাজার বছর ধরে হিন্দুরাও এইভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং আগামীদিনেও তা বন্ধ হবে কি না জানি না। তাই হামাসের এই আক্রমণ দেখে হিন্দুদেরও সতর্ক হতে হবে।” এদিন ইজরায়েলের সমর্থনে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়। এই গণস্বাক্ষর রাষ্ট্রপুঞ্জে পাঠানো হবে বলে দেবাশীসবাবু জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *