অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ৬ জুন: তৃতীয় শ্রেণির প্রয়াত ছাত্রী শ্রীতমা মণ্ডলের মরদেহ সোমবার এস এস কে এম হাসপাতালে মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে
দান করা হল।
হাওড়া কদমতলার বাসিন্দা শ্রীতমার হৃদস্পদন রবিবার স্তব্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর ধরে দূরারোগ্য ব্রেন স্টেম গ্লিওমা এবং সেরিবেলাম স্পাইন এক্সটেনশন রোগে ভুগছিল। শ্রীতমার বাবা-মা বহু জায়গায় ওর চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু কোথাও কোনও আশার বাণী শুনতে পাননি। তবুও কিছু অভাবনীয়র আশায় ছিলেন। কিন্তু তা কিছু ঘটেনি। মিশন ইন্টারন্যাশানাল বোধদয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী বেড়াতে যেতে ভালবাসতো। দেশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছে। না ঘোরা অনেক জায়গা যাওয়া হল না।
শ্রীতমার বাবা-মা শ্রীতমার ছোট্ট দেহটাকে পুড়িয়ে নষ্ট করতে চাননি। ওঁরা ‘গণদর্পণ’-এর সাথে যোগাযোগ করে শ্রীতমার দেহ দান করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। গণদর্পণ দ্রুত সেইমতো ব্যবস্থা করে। প্রভা আই ব্যাঙ্ক শ্রীতমার কর্ণিয়া সংগ্রহ করে। সোমবার এস এস কে এম মেডিক্যাল কলেজের অ্যানাটমি বিভাগে শ্রীতমার মরদেহ দান করা হয়।
শ্রীতমার বাবা নারায়ণ মণ্ডল ও মা মঞ্জুশ্রী বাজানীর এই মনোভাব দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। পাশাপাশি মরণোত্তর দেহদান আন্দোলনকে জোরদার করবে।

