অধিক বৃষ্টিতে গঙ্গার বাঁধ ভেঙ্গে নবদ্বীপে বিঘের পর বিঘে পাটের জমি নষ্ট, মাথায় হাত চাষিদের, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২০ জুন:
গতকাল সন্ধ্যে পর্যন্ত ভাগীরথীর জলস্তর ছিল ৬.০২ মিটার, বিপদসীমার মাত্রা ৮.৪৪ মিটার। গত কয়েকদিন ধরে অত্যধিক বৃষ্টির ফলে প্রায় প্রতিদিনই বাড়ছে জলস্তর। নদিয়া জেলার অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে পাট চাষের ওপর। নদিয়া জেলার নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুরে বেশিরভাগ অংশে পাট চাষ হয় বিপুল পরিমাণে। পাট চাষিদের ক্ষেত্রে একটি লাভ জনক অর্থকারী ফসল। এবছর নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর এলাকায় বিঘের পর বিঘে জমিতে অত্যাধিক বৃষ্টির ফলে পাটের জমিতে গঙ্গার জল ঢুকতে শুরু করেছে ক্রমশ। প্রাচীন মায়াপুরের বাঁধ ভেঙ্গে জল ঢুকতে শুরু করেছে এখনই। ফলে পাট চাষিদের মাথায় হাত, দুশ্চিন্তায় নদির তীরবর্তী বসবাসকারীরাও। যদিও পাট একটু বেশি বৃষ্টি হলে জলে কোনও ক্ষতি হয় না। কিন্তু অত্যাধিক জলে পাট গাছ খুব বড় হতে পারে না বরং পাট গাছের গোঁড়া আলগা হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে চাষিদের পাট গাছ কেটে ফেলতে হচ্ছে পরিপূর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও। পাট গাছ বড় না হলে পাটের দামও সঠিক পাওয়া যাবে না, ফলে আগামী দিনে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বেন পাট চাষিরা। এই বছর পাটের জমিতে খুব ভালো হয়েছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ হয়েগেছে।

জানাগেছে, বেশি টাকা সুদে ঋণ নিয়ে পাট চাষ করেছিলেন চাষিরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে চাষিদের পাট চাষের খরচ তোলা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। নদিয়া জেলাতে কোনও প্রকার কলকারখানা নেই সেই ভাবে, ফলে নদিয়া জেলাবাসীরা অনেকটাই চাষের দিকে তাকিয়ে থাকে। পাশাপাশি পাট চাষে বিপুল ক্ষতি হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের কাছে বারবার সাহায্যের আর্জি জানিয়েও কোনও সুরাহা না হওয়ায় হতাশ পাট চাষিরা। এখন মাথায় হাত পাট চাষিদের। অন্যদিকে গঙ্গার তীরবর্তী বসবাসকারীদের দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কখন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *