আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৭ আগস্ট: শিয়ালদহ মেইন শাখার ইছাপুর স্টেশন সংলগ্ন রেল কোয়ার্টার থেকে দখলদারদের উচ্ছেদের চেষ্টাকে ঘিরে শনিবার উত্তেজনা ছড়াল ইছাপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। শনিবার দুপুরে রেলের পক্ষ থেকে ইছাপুর স্টেশন সংলগ্ন রেল
কোয়ার্টারগুলি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করেতে আসে। চলতি বছরে গত ২৫ জুন রেল কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেয় অবিলম্বে রেলের কোয়ার্টারগুলো খালি করে দিতে হবে। এই অঞ্চলে প্রায় ৪৭টি রেল কোয়ার্টার আছে। রেলের নোটিশ অনুযায়ী ওই কোয়ার্টারগুলি বেআইনি ভাবে দখল করে রেখেছেন ওখানকার বাসিন্দারা। তাই সেগুলি ৭ দিনের মধ্যে খালি করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।
মূলত ছয়টি কোয়ার্টার দখলকে ঘিরেই সমস্যা শুরু হয়। এদিন আরপিএফ কার্তারা ও ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী রেল কোয়ার্টারগুলি থেকে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আসে। সেই সময় রুখে দাঁড়ায় কোয়ার্টারের বাসিন্দা এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত, ৫ আগস্ট রেলের দেওয়া উচ্ছেদের নোর্টিশের প্রতিবাদে নোয়াপাড়া শহর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা ইছাপুর স্টেশন চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে। সেই দিনই তারা রেলের এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করবার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেন এবং তারা এই উচ্ছেদ আটকানোর কথাও জানান।
এদিন রেল পুলিশ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করেতে আসে। রেল পুলিশ দু-একটি কোয়ার্টার ভাঙ্গচুর করলেও বাকি কোয়ার্টারগুলি ভাঙ্গতে দেয়নি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। প্রায় ৬০ বছর ধরে ওই রেল কোয়ার্টার গুলিতে বাস করছেন ওখানকার বর্তমান বাসিন্দারা। একদিকে করোনা পরিস্থিতি আর অন্যদিকে বর্ষা এই পরিস্থিতিতে রেল পুনর্বাসন না দিলে কোয়ার্টার ছাড়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব ও ওই কোয়ার্টারের বাসিন্দারা। উচ্ছেদ করতে আসা রেলের আধিকারিকদের সাথে আলোচনা করেন তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব আপাতত ছয় মাস সময় চেয়ে নিয়েছেন। কিন্তু এই ৬ মাসের মধ্যে ফের যদি কোয়ার্টার খালি করতে আসে, তাহলে রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জোরদার আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বাসিন্দারা।

