সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৭ জুলাই: সহকর্মীর মৃত্যুতে আধিকারিকদের দায়ী করে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। আজ পুরুলিয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
পুরুলিয়ার বাঘমুণ্ডির তুন্তুড়ি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কমিউনিটি হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট রিঙ্কু গরাই (৪২) এর সঙ্গে চুড়ান্ত দুর্ব্যবহার করেন ডিপিএইচএনও কৃষ্ণা দাস। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁকে পুরুলিয়া শহরের জেলা স্বাস্থ্য ভবনে ডেকেও পাঠান ওই আধিকারিক। তুন্তুড়ি থেকে প্রায় আশি কিলোমিটার দূর থেকে পুরুলিয়া সদরে আসা ওই সময়ে খুবই কঠিন, একথা জানালেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয়ে এক জনের বাইকে চেপে জেলা সদরে আসতে হয় তাঁকে। ওই দিন সন্ধে বেলা তাঁকে ছাড়া হয় বলে জানান তুন্তুড়ি প্রাথমিক কেন্দ্রে মৃতার সহকর্মী জয়নাভ খাতুন। বাড়ি ফেরার পথে জয়পুরের কাছে বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। এতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

তার সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণেই উনি পড়ে গিয়ে মারা যান। ঊর্ধ্বতন আধিকারিকের মানসিক উৎপীড়নের কারণে সহকর্মীর দুর্ঘটনায় মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এবং মৃত স্বাস্থ্য কর্মীর দেহ মঙ্গলবার সারা দিন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে দফতরে আটকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জেলার মহিলা স্বাস্থ্য কর্মীরা। এমনকি বিকেল থেকে সন্ধে পর্যন্ত রাঁচি রোড অবরোধ করেছিলেন তাঁরা। আর আজ অভিযুক্ত স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মৃতের ছেলেকে চাকরির দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন স্বাস্থ্য কর্মীরা বলে জানান প্রগ্রেসিভ নার্স অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশনের নেত্রী রিতা কুন্ডু। আন্দোলনে সামিল হয় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের পুরুলিয়া জেলা স্বাস্থ্য শাখা।

ওই সংগঠনের পুরুলিয়া জেলার আহ্বায়ক মহম্মদ নিয়ামুল খান বলেন, “আমাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আধিকারিকরা। ঘটনার তদন্তের জন্য কমিটি গঠন হচ্ছে।”

