স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৮ মার্চ: জেলা জুড়ে ক্রমাগত বাড়ছে স্বাস্থ্য কর্মী নিগ্রহর ঘটনা। কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালেও মাঝেমধ্যেই কর্মবিরতি ডাক দিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় জুনিয়র ডাক্তারদের।
আজ নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে গ্রুপ ডি স্টাফ দেবজিৎ ভদ্র অন্য আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতন কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়ার ডেটা এন্ট্রির কাজ করছিলেন। শান্তিপুর এক নম্বর ওয়ার্ডের দু’ নম্বর গেটের বাসিন্দা বলাই হালদারকে বয়স জানতে চাওয়ায়, তিনি বলেন যা খুশি লিখতে। এরপর হাতের আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার আগে তিনি টিপ ছাপ দিতে অস্বীকার করেন। তিনি বলেন তিনি স্বাক্ষর, তাই তিনি হাতের ছাপ কেন দেবেন? আর এই নিয়েই বাদে বচসা। গ্রুপ ডি স্টাফ দেবজিৎ ভদ্র জানান, হঠাৎ সপাটে তাকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে বলাই হালদার নামের ওই যুবক। তার সাথে আগত এক মহিলা পেছন থেকে গেঞ্জি টেনে ধরে এবং মারধর করতে থাকে।
ওয়ার্ড মাস্টার হিসেবে দায়িত্বে থাকা মাধবেন্দ্র সরকার জানান, এর আগেও গ্রুপ ডি স্টাফ, নার্সিং স্টাফ এবং ডাক্তারদের উপর অনেকেই বিভিন্ন অভিযোগে অনেক সময় চড়াও হয়েছেন। পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করে, শান্তিপুর থানা দোষীকে গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দিলে তবেই তারা আবার স্বাভাবিক ভাবে কাজে ফিরবেন। তা না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপারেন্টেন্ড ডক্টর তারক বর্মন জানান, কোভিড পরিস্থিতির মধ্যে বিপুল সংখ্যক মানুষকে পরিসেবা দিয়েছেন এই স্বাস্থ্য কর্মীরাই। হাসপাতালের গেটে সমস্ত স্বাস্থ্য কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভে শামিল হন।
তাদের প্রতি এ ধরনের আচরণ নিন্দনীয়। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে দোষী ব্যক্তিকে সনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ বিষয়ে শান্তিপুর থানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ জানানো হচ্ছে।

