Sukanta, Abhishek, “ইডির ভয়ে কলকাতায় থাকছেন না, এদিক ওদিক ঘুরছেন”, অভিষেকের জেলা সফরকে কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২২ জানুয়ারি: কয়লা পাচার থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, সিবিআই ও ইডির ধারাবাহিক অভিযান রাজনৈতিক মঞ্চে উত্তেজনাকে তুঙ্গে তুলে দিয়েছে। তার সাম্প্রতিকতম উদাহরণ আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাধা দিয়ে ফাইলপত্র নিয়ে বেরিয়ে যাওয়া। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে যায়। ঘটনা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এবার এই প্রসঙ্গকে টেনেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চূড়ান্ত কটাক্ষ করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

বিধানসভা ভোট যত এগোচ্ছে ততই জোরদার হচ্ছে সব দলের রাজনৈতিক প্রচার। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় সভা করতে শুরু করেছেন। গত কয়েকদিনে একাধিক জেলায় সভা করেছেন তিনি। অভিষেকের এই সফরকেই কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। উত্তরবঙ্গের এক জনসভা থেকে সুকান্তবাবু বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না। তারা আসলে ইডি ও সিবিআই, এর ভয়ে কলকাতায় থাকতে পারছেন না।

সুকান্ত মজুমদারের কথায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক জেলায় যাচ্ছেন। আমাদের জেলাতেও কিছুদিন আগে এসেছিলেন, কিন্তু তার সভায় লোক হচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করেও মাঠ ভরাতে পারছে না তৃণমূল।

একইসঙ্গে তাঁর আরো দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির ভয়ে কলকাতায় থাকছেন না। তিনি বলেছেন, ভয় পাচ্ছেন, যদি ইডি কান ধরে তুলে নেয়। তাই ভাবছেন এদিক ওদিক ঘুরতে থাকলে বেঁচে যাবেন। কিন্তু বিজেপি ছাড়বে না। ট্রিটমেন্ট বিজেপি করবেই।

পুরুলিয়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আলসার বলে কটাক্ষ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সঠিক চিকিৎসা না হলে আলসার ক্যান্সারে পরিণত হবে। সেই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, আসল ক্যান্সার তৃণমূল কংগ্রেস। তারা ২৬ হাজার মানুষের চাকরি খেয়েছে। ৮২০০ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ আজ ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজেপি নেতা আশ্বাস দিয়েছেন, তার দল ক্ষমতায় এলে আর কাউকে রাজ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে না। চাকরি প্রার্থীদেরও রাস্তায় বসে আন্দোলন করতে হবে না। সুকান্ত মজুমদারের কথায়, উন্নয়ন যা করার বিজেপিই করবে। তবে তার আগে রাজ্যের বর্তমান শাসক দলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *