আমাদের ভারত, ১৭ জুলাই:
সারা দুনিয়া জুড়ে হিন্দুদের বদনাম করার জন্য বড়সড় ষড়যন্ত্র চলছে। আর সেই লক্ষ্যে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকার রটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষণার একটি রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ম্যাসেজিং সার্ভিসের মাধ্যমে হিন্দু বিরোধী প্রচার ইচ্ছাকৃত ভাবে মারাত্মক হারে বাড়ানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বেশকিছু বছর ধরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভব্য ভাষার ব্যবহার বেড়েছে। অথচ সেই দিকে কেউ নজর দেয়নি। সম্প্রতি, বিশেষত জুলাই মাসে এই কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
“অ্যান্টি হিন্দু ইনফর্মেশন অ্যা কেস স্টাডি অফ হিন্দু ফোবিয়া অন সোশ্যাল মিডিয়া” শীর্ষক গবেষণা অনুযায়ী জাতীয়তাবাদী হিন্দুদের নরসংহারের মতো ঘটনার সঙ্গে জুড়ে বিভিন্ন ধরনের মিম, মেসেজিং অ্যাপ, টেলিগ্রাম ও অন্যান্য কট্টর ইসলামিকওয়েব নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রকাশ্যেই হিন্দুদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
রটগার্স ইউনিভার্সিটির গবেষকরা নিজেদের গবেষণায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার জন্য কেস স্টাডি করছিলেন। সেখান থেকেই তারা জানতে পারেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু বিরোধী সমস্ত টুইট শুধুমাত্র পাকিস্তান থেকেই আসে না, দেখা গেছে ইরান সহ অন্যান্য দেশের বেশকিছু সরকারি তথ্য দফতর থেকেও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেগুলি সমস্তই হিন্দু বিরোধী। কমপক্ষে ১০ লাখ টুইট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ভারতে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ভুয়ো তথ্য দিয়ে প্রচার চালানো হয়েছে এবং হিন্দু বিরোধী প্রপোগান্ডা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিউ জার্সির গভর্নর এসটিএম স্কলার্স প্রোগ্রামের হাই স্কুলের ছাত্রদের সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করেই এইসব জানাগেছে। এরা সকলেই নিজেদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে জানতে মেশিন লার্নিংয়ের চেষ্টা করছিল। তখনই তারা হিন্দু বিরোধী ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার এই সব তথ্য সম্পর্কে জানতে পারে।
ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সম্প্রতি ভারতীয় দোকানদারের হত্যার ঘটনাকে সামনে রেখে হিন্দুবিরোধী কোড ও মিম ছড়ানো রেকর্ড হারে বেড়েছে জুলাই মাসে। এই সব মিমের মাধ্যমে হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটি অসন্তোষের পরিবেশ তৈরী করার চেষ্টা হয়েছে। হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

