স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৪ মার্চ: বন্ধুর অসহায় কান্নার সামনে ভেসে গিয়েছিল দেশ, কাল, ধর্মের বেড়াজাল। আর তাই বন্ধুর প্রাণ বাঁচাতে স্বেচ্ছায় নিজের কিডনি দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন রায়গঞ্জের কাচিমুহা গ্রামের বাসিন্দা হাসলু ইসলাম। বন্ধুর এই মানবিকতায় ফের সুস্থ জীবনে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে কালিয়াগঞ্জের মুস্তাফানগরের বাসিন্দা অচিন্ত বিশ্বাস।
প্রায় দু’বছর ধরে কিডনির জটিল রোগে আক্রান্ত কালিয়াগঞ্জের মোস্তাফানগরের বাসিন্দা অচিন্ত বিশ্বাস। একটি বেসরকারও ঋণপ্রদানকারী সংস্থায় কাজ করতেন তিনি। সামান্য টাকায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালান। সম্প্রতি কলকাতায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার সময় চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন তার দুটি কিডনিই খারাপ হয়ে গিয়েছে। প্রতিস্থাপন ছাড়া বাঁচার কোনো আশা নেই। কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যায়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাটা অচিন্তবাবুর কাছে দুঃসাধ্য। বাঁচার আসা যখন ক্রমশঃ ক্ষীন হয়ে আসছে তখনই আসে এক বন্ধুর ফোন। হাসলু ইসলাম নামে রায়গঞ্জের কাচিমুহা গ্রামের বাসিন্দা, সেই বন্ধু জানায় তিনি স্বেচ্ছায় নিজের একটি কিডনি দান করতে চান। বন্ধুর কাছ থেকে এই বার্তা পেয়ে আবার সুস্থ জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অচিন্ত বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, বছর ছয়েক আগে ঋণ দেওয়া নিয়ে দৃঢ় বন্ধুত্ব তৈরী হয় হাসলুর সাথে। সেই সম্পর্কের জেরেই হাসরুল তার একটি কিডনি বিনাপয়সায় দান করতে চেয়েছে। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরী হয়ে গিয়েছে। বন্ধুর এই মানবিকতায় রীতিমতো আবেগাপ্লুত অচিন্তবাবু।

অন্যদিকে হাসলু ইসলাম বলেন, “অচিন্তর পরিবারে স্ত্রী-ছেলে ছাড়া আর কেউ নেই। খুব অসহায়। আমার তো তাও পরিবারে অনেকে রয়েছে। ওকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্যই আমি স্বচ্ছায় কিডনি দিতে রাজি হয়েছি। ও ভালো হয়ে উঠুক এটাই চাইছি। সব মিলিয়ে দুই বন্ধুর এই সম্পর্ক রীতিমতো আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে এলাকায়। বন্ধুত্বের কাছে সমস্ত সঙ্কীর্ণতাই যে ছোটো তা আরো একবার প্রমাণিত হল অচিন্ত-হাসলুর এই নিখাদ বন্ধুত্বে।

