জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৫ আগষ্ট: জমি অধিগ্রহন হয়েছে ১০ বছর আগে। একে একে তৈরী হচ্ছে শিল্প কারখানা, কিন্তু এখনও জমিদাতাদের পুনর্বাসন প্যাকেজ জোটেনি বলে অভিযোগ। প্রতিশ্রুতি মতো পুনর্বাসন প্যাকেজ না মেলায় শিল্পতালুকের গাড়ি পার্কিংয়ের কাজ বন্ধ করে দিল জমিদাতারা।
২০০৮-০৯ সালে রাজ্যে বামফ্রন্টের জামানায় পানাগড় শিল্পতালুকের জমি অধিগ্রহন শুরু হয়। কোটা- চন্ডীপুর, সোঁয়াই, পোন্ডালী সহ একাধিক মৌজার প্রায় ১৫০০ একর জমি অধিগ্রহন করে। কৃষকদের দাবি, জমি অধিগ্রহনের সময় রাজ্য সরকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল। তাতে একর পিছু জমির দাম ১০ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং বর্গাদার, ক্ষেতমজুরদের আলাদা আর্থিক প্যাকেজ ছিল। এছাড়াও জমিদাতাদের পুনর্বাসন প্যাকেজ।
পুনর্বাসন প্যাকেজে বিঘা প্রতি ১ কাঠা করে জমি সব্বের্চ্চ ৬ কাঠা পর্যন্ত জমি পাবে জমিদাতারা। সেই মত জমি অধিগ্রহন হয়। ইতিমধ্যে শিল্পতালুকে ম্যাট্রিক্স সার কারখানা, এইচপি বটলিং প্ল্যান্ট, সিমেন্ট কারখানা, গ্লোবাল স্পিরিটের মত কারখানা গড়ে উঠেছে। সারকারখানা ছাড়া বাকি সব কারখানায় উৎপাদনও শুরু হয়েছে। সারকারখানায় পরীক্ষামুলক উৎপাদন সফল হয়েছে। অপেক্ষা শুধু বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন। শিল্পতালুকে কারখানা গড়ে উঠলেও জমিদাতারা পুনর্বাসন প্যাকেজ পায়নি বলে অভিযোগ। পুনর্বাসন প্যাকেজ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ জমিদাতারা
সেই অভিযোগে বুধবার শিল্পতালুকে নির্মীয়মান পার্কিংয়ের কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। ক্ষোভের মুখে নির্মানকারী সংস্থা পার্কিং নির্মানের কাজ বন্ধ করে দেয়। ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ জমিদাতা কৃষ্ণদয়াল কর্মকার, শ্যামল মন্ডল, বিশ্বজিত ঘোষ প্রমুখ জানান, “২০০৮-২০০৯ বর্ষে তৎকালীন বামজামানায় জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রতিশ্রুতি মতো পুনর্বাসন প্যাকেজের জমি এখনও দেয়নি। প্রায় ১০ বছর হল রাজ্য সরকার জমিদাতাদের পুনর্বাসনের জমি দিতে টালবাহানা করছে। অন্ডাল বিমাননগরীতে জমিদাতাদের পুনর্বাসন প্যাকেজ দেওয়া হলেও পানাগড় শিল্পতালুকে প্যাকেজ দেওয়া হল না। রাজ্য সরকার দ্বিচারিতা করছে।”
ক্ষুব্ধ জমিদাতারা জানান, “এখনও বেশকিছু বর্গাদার, ক্ষেতমজুর ক্ষতিপুরন পায়নি। যেসব কারখানা হয়েছে, সেখানে স্থানীয়দের বঞ্চিত করে বহিরাগতদের কাজে নেওয়া হচ্ছে।” জমিদাতাদের দাবি, “ঘোষিত প্যাকেজ রাজ্য সরকার অবিলম্বে দিক। না হলে বৃহত্তর আন্দোলন শুরু হবে।”
আউশগ্রাম বিধায়ক অভেদানন্দ থান্ডার বলেন, “জমির দাম চাষীরা পেয়েছে। যেসব কারখানা হয়েছে, সেখানে স্থানীয়রা কাজ পাচ্ছে। পুনরবাসনের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

