ব্যাঙ্গাত্মক ছড়া ছবির ঐতিহ্য বজায় রেখে হরিনাম সংকীর্তন শাঁখারীপাড়ায়

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২০ মার্চ: অতীত ঐতিহ্য বজায় রেখে তীর্যক ছড়া ছবির সম্ভার নিয়ে শুরু শাখারীপাড়ায় হরিনাম সংকীর্তন। বর্তমান সমাজের নানা ঘটনার সরস সমালোচনায় ভরা এই সব ব্যাঙ্গ চিত্র উপভোগ করতে ভিড় জমান আবিলবৃদ্ধ বনিতা।হরিনাম সংকীর্তনের সূচনা কাল থেকেই ছড়া ছবির ব্যাঙ্গ চিত্র শাখারীপাড়ার হরিনামে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। সেই ঐতিহ্য বজায় রয়েছে আজও।
এবারের ব্যঙ্গচিত্রে বর্তমান রাজনৈতিক নেতাদের দলবদল নিয়ে ব্যাঙ্গাত্মক ছড়া যেমন রয়েছে, তেমনি ছড়ায় পরিবারের জন্য বরাদ্দ সরকারি রেশন দ্রব্য বাজারে বিক্রি করার প্রবনতা তুলে ধরা হয়েছে, আবার করোনা
পরিস্হিতিতে দীর্ঘ দু’বছর পর স্কুল খোলার পরের পরিস্হিতি নিয়ে ছড়া–
“পোষাক ছিল হাঁটুর নীচে
এখন দেখি উপরে
বছর দুয়েক স্কুল বন্ধ
ইস্কুলে যায় কি পরে?”
—লোকের মুখে মুখে ফিরছে।

তেমনি রেশন নিয়ে মধ্যবিত্তের মানসিকতা নিয়ে রঙ্গ —
“গিন্নি দেব এবার তোমায়
সাধের হীরের হার
রেশন তুলে বিক্রি করে
দিচ্ছি উপহার”। এরকম ছড়া এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে।

এলাকার বিশিষ্ট ছড়াকার, কবি, চিত্রশিল্পী মনোহর নন্দী জানান, শাখারীপাড়ার হরিনাম মানেই ব্যাঙ্গচিত্র। আর এসবের রসাস্বাদন করতে দূরদূরান্তের বহু মানুষ ছুটে আসেন। এখনও পর্যন্ত এই ধারা বজায় রয়েছে।
১৩৫২ সালে দেশে মহামারীর প্রকোপ দেখা দেয়। সেই সময় এই পরিস্থিতি থেকে মানব সমাজের মুক্তির আশায় এলাকার দুই ধার্মিক রাধারমণ দাস ও নরেন্দ্র নাথ লক্ষণের উদ্যোগে দোলপূর্ণিমার দিন হরিনাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়। পরবর্তী কালে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই নাম যজ্ঞে এগিয়ে আসেন এবং তাদের প্রচেষ্টায় পাঁচ দিনের নামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়। সেই সময় এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট শিক্ষক ও ছড়াকার যামিনী নন্দীর ব্যাঙ্গাত্মক ছড়া জনপ্রিয়তা অর্জন করে।বর্তমানে সেই ধারা বজায় রয়েছে। কিন্তু এই ধারা কতদিন বজায় রাখা সম্ভব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় উদ্যোক্তারা। হরিনাম সংকীর্তন ছাড়াও ব্যাঙ্গচিত্র বাবদ বহু টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও রয়েছে কবিগান, নরনারায়ণ সেবা সহ নানা কার্যক্রম। একসময় হরিনাম সংকীর্তন উপলক্ষ্যে যাত্রা অভিনীত হোত। এখন আর তা সম্ভব হচ্ছে না খরচের কারণে। এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে লোকশিল্প আক্ষেপ উদ্যোক্তাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *