আমাদের ভারত, ১৩ জুন: উত্তরে একেবারে দামামা বাজিয়ে বর্ষা ঢুকেছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ মুষলধারে বৃষ্টিও নেমেছে। পাহাড়ে আগামী পাঁচ দিন অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গ বৃষ্টির অপেক্ষায় চাতকের দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে। প্রাক বর্ষার খামখেয়ালি বৃষ্টিতেই দুধের সাধ ঘোলে মেটাচ্ছে শহর ও শহরতলি। গুর গুর করে মেঘ ডাকলেই আশায় মন বাধছেন দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। কিন্তু বর্ষার আগমনে কোথায় বাধা?
এবছর বর্ষা এমনিতেই দেরিতে ঢুকেছে। তার ওপর দক্ষিণবঙ্গে এখনো বর্ষার দেখা নেই। আবহাওয়ার খামখেয়ালির জন্য দায়ী করা হচ্ছে আরব সাগরের ঘূর্ণিঝড়কে। মৌসম ভবনের কথা অনুযায়ী জলবায়ুর একটা বড়সড় বদল হয়েছে এবার। প্রশান্ত মহাসাগরের দামাল এল নিনো ফিরে এসেছে। বাংলা ওড়িশা উপকূলের নিম্নচাপ ঘনায়নি। যা অন্যদিকে আরব সাগরে তাণ্ডব শুরু করেছে। এই দুইয়ের ধাক্কাতেই বর্ষা থমকে গেছে। পাহাড়ে বর্ষা ঢুকলেও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে দেখা নেই বর্ষার।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণেই এই জলবায়ুর বদল হয়েছে বলে আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। দ্রুত নগোরান্নায়ন, গাছ কেটে ফেলা, অত্যধিক দূষণ, তেজস্ক্রিয়ের বিকিরণ দাবদাহের জন্য দায়ী। ঋতু চক্রের ছয় ঋতুর উপস্থিতি এখন আর সেভাবে অনুভূত হয় না। প্রশান্ত মহাসাগরে উষ্ণ জলস্রোত যার পোশাকি নাম এল নিনো ছাড়খাড় করে দিচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরের দু’রকমের আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয় এক লা নিনা, যার ফলে তাপমাত্রা কমে, আর দুই হল এল নিনো, যা ভয়ংকর। এল নিনো হলো এক উষ্ণতম সামুদ্রিক জলস্রোত, যা সমুদ্র পৃষ্ঠের উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। এল নিনোর কারণে সাগরের তলদেশ থেকে ঠান্ডা জলের স্রোত আর উপরে উঠতে পারে না। ফলে পূর্বের ঠান্ডা জলস্রোতের তাপমাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। সমুদ্রের পৃষ্ঠের জলস্তরের আর ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ থাকে না। জলস্তরের উষ্ণতা বাড়তে শুরু করলে সংলগ্ন এলাকার তাপমাত্রাও বাড়তে শুরু করে। জলস্তরের তাপমাত্রা অন্তত দুই থেকে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়, ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় বায়ুমণ্ডল তপ্ত হয়ে ওঠে। তীব্র তাপপ্রবাহ তৈরি হয়। সেই তাপপ্রবাহই স্থলভাগের দেশগুলির দিকে বয়ে যায়।
অন্যদিকে বর্ষা কেরলে ঢোকার সময় আরব সাগরে ঘূর্ণিঝড় বিপর্যয় তৈরি করেছে। এই ঘূর্ণিঝড় কুদৃষ্টি দিয়েছে বর্ষায়। কেরলে বর্ষা সময় মতো ঢুকলেও বাংলায় ঢোকার পথে শক্তি হারাচ্ছে, থমকে যাচ্ছে বারে বারে। তাই আবহাওয়াবিদরা বলছেন, উত্তরে বর্ষা এলেও দক্ষিণে মৌসুমী বায়ুর আগমন এখনো বিলম্বিত। মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের সর্তকতা ছিল। বৃষ্টি হলেও গরমে অস্বস্তিকর আবহাওয়া থাকবে। যেখানে বৃষ্টি হবে সেখানে অস্বস্তি পিছু ছাড়বে না।

