অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ১ সেপ্টেম্বর: গ্রাম থেকে দীর্ঘ আট মাস নিখোঁজ থাকার পর গ্রামেই ক্যানেল পাড়ে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হল এক যুবক এবং তার সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া এক গৃহবধূর মৃতদেহ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের সাতমা অঞ্চলের বংশীধরপুর গ্রামের ঝিল্লি খানের পাড়ে।মৃত যুবকের নাম ধীরেন্দ্রনাথ ডাঙ্গুয়া এবং গৃহবধূর নাম অঞ্জলি সিং।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসের মাঝের দিকে এলাকায় যখন মকর সংক্রান্তির উৎসব চলছিল তখন গ্রামের যুবক ধীরেন্দ্রনাথ ডাঙ্গুয়া এবং গৃহবধূ অঞ্জলও সিং দুজনেই বেপাত্তা হয়ে যান। দুজনের আলাদা সংসার থাকা সত্ত্বেও দুজনে একসঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কোনও রকম যোগাযোগ করতে পারেনি তাদের সঙ্গে। ফলে দুজনের পরিবারের লোকজন ধরে নেন অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে হয়তো দুজনে আলাদা জায়গায় নতুন করে সংসার পেতেছেন। তাই দুই পরিবারের লোকজন এবং বংশীধরপুর গ্রামের মানুষ নিখোঁজ দুজনকে একপ্রকার ভুলতে বসেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আট মাস পর বুধবার বংশীধরপুর গ্রামের ক্যানেল পাড়ে এলাকার লোকজন দেখতে পান একটি গাছে ঝুলছে ধীরেন্দ্রনাথ এবং অঞ্জলির মৃতদেহ। ঘটনার পর এলাকায় একপ্রকার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর কেনই বা দুজন আবার গ্রামে ফিরে আত্মহত্যা করলেন। তবে কী সামাজিক লজ্জার ভয়ে গ্রামে ঢোকার আগে আত্মহত্যা করলেন নাকি অন্য কিছু উঠছে প্রশ্ন?

তবে এদিন গ্রামবাসীরা মৃতদেহ দুটি দেখতে পেয়ে প্রথমে এলাকার পঞ্চায়েত প্রধান এবং গোপীবল্লভপুর থানায় খবর দিলে পুলিশ মৃতদেহ দুটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটা খুন না আত্মহত্যা গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ।

