অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২ আগস্ট: চার বছর আগে তীর্থে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলেন মানসিক ভারসাম্যহীন সুনীতা গওর। তাঁর খোঁজ মিলল সীমান্তবর্তী সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জে। সোমবার তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে দিল হ্যাম রেডিও।
সন্তানের কাছে মাকে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি পশ্চিমবঙ্গ হ্যাম রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ। এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, তীর্থে গিয়ে সন্তানদের থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলার সেবা-শুশ্রুষা করে তাঁকে সুস্থ করে তোলেন হিঙ্গলগঞ্জের বাসিন্দারা। সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন স্থানীয় প্রশাসন ও বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বাজার কমিটির সম্পাদক এবং ওষুধ ব্যবসায়ী সুশান্ত ঘোষ।
অম্বরীশবাবু জানান, প্রতি রাত ন’টায় আমরা সম্প্রচার করি। তাতে ওষুধ-রক্ত-নিখোঁজ প্রভৃতির জরুরি ঘোষণাও থাকে। রবিবার রাতে সুশান্ত ঘোষ ওই মহিলার ব্যাপারে প্রচার করার আবেদন করেন। সমস্যা হচ্ছিল তিনি এতটাই মানসিক বিপর্যস্ত ছিলেন, কিছুই বলতে পারছিলেন না। কথা বোঝা যাচ্ছিল না। আমিও ওনার সঙ্গে কথা বলি। কেবল আজমগড় কথা বোঝা যাচ্ছিল। আমরা ওখানকার পুলিশ-প্রশাসন এবং হ্যাম রেডিও শ্রোতাদের বিষয়টি জানাই। তারা তৎপর হয়। খোঁজ করে তারা মহিলার বাড়ি যায়। দেখা যায় সেটি তালাবন্ধ। এর পর তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে গেলে প্রথমে মূলত ভ্রাতৃবধূ চরম অসহযোগিতা করতে শুরু করেন। আমি খবর পেয়ে এখান থেকে ফোনে বলি, অসুস্থ মহিলা ওঁদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। তাঁকে দ্রুত ফেরৎ নেওয়ার ব্যবস্থা না করলে ফল খারাপ হবে। আজমগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন আমাকে। এতে কাজ হয়।

সুনীতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, “সাত বছর আগে দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন উত্তরপ্রদেশের আজমগর জেলার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব সুনিতা গওর। সেই থেকেই সবাইকে তিনি বলতেন, “তীর্থে যাব, তীর্থে যাব।” এরপর হঠাৎ একদিন নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খোঁজ করেও কোথাও পাওয়া যায়নি তাঁকে। পুলিশও তাঁর কোনও খোঁজ দিতে পারেনি।
এর পর নাটকীয়ভাবে সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জে খোঁজ মেলে সুনীতার। সূত্রের খবর, মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে চিনতে পেরেছেন তাঁর ছেলে-মেয়ে ও ভাই-বোন। সামনে আসে তাঁর হারিয়ে যাওয়ার কাহিনি। সোমবার দুপুরে সেই মহিলাকে গাড়ি করে উত্তরপ্রদেশ থেকে এসে নিয়ে যান তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

অম্বরীশবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দিতে পেরে আমরা খুশি। অন্যদিকে, মনের তৃপ্তি, শান্তি, মানবিকতার জন্য গত ১৫ বছরে প্রায় ৬০ জন মানসিক ভারসাম্যহীনকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ফিরিয়ে দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন হিঙ্গলগঞ্জের সুশান্ত ঘোষ। খুশির হাওয়া গ্রামে। চার বছর বাদে মাকে খুঁজে পেয়ে খুশি তাঁর ছেলে-মেয়েরা। পরিবার-পরিজনদের ফিরে পেয়ে খুশি মহিলাও।

