সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ১৭ ফেব্রুয়ারি: দীর্ঘদিনের আন্দোলনের সাফল্যে বাঁকুড়ার ট্রেন যাত্রীদের মধ্যে খুশির হাওয়া। আগামী সোমবার থেকে বাঁকুড়া শহরের উপকন্ঠে কেশরা কাটজুড়িডাঙায় হল্ট স্টেশন চালু হতে চলেছে। আগামী সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই হল্ট স্টেশনে ট্রেন থামবে। দক্ষিণ- পূর্ব রেল সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। এদিন থেকে পাঁচ জোড়া ট্রেন দাঁড়াবে বাঁকুড়ার এই নবনির্মিত হল্ট স্টেশনে। এর ফলে খুশির বাঁকুড়া শহর ও শালবনী সহ বির্স্তীণ এলাকার বাসিন্দারা।
রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, এই নতুন হল্ট স্টেশন চালু হলেও অন্য স্টেশনগুলির সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে নিয়মিত যাত্রীদের চলাচলে অতিরিক্ত চাপ পড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কেশরা–কাটজুড়িডাঙা নতুন প্যাসেঞ্জার হল্টে ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে একাধিক মেমু ও যাত্রী ট্রেনের স্টপেজ চালু করা হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এতে নতুনচটি, কাঠজুড়িডাঙ্গা, কেশড়া, শালবনী সহ প্রায় ২০-২২টি গ্রামের মানুষের সুবিধা হবে।এই নতুন হল্টটি বাঁকুড়া ও আঁচুড়ি স্টেশনের মাঝে অবস্থিত। এই এলাকা বাঁকুড়া শহর থেকে অনেকটাই দূরে। সেইজন্য এতদিন এই এলাকার বাসিন্দাদের ট্রেন ধরতে চরম সমস্যায় পড়তে হতো। তাই এই হল্ট গড়ে তোলার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছিল।বএই দাবি পূরণ হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার জানিয়েছেন, যাত্রীদের যাতায়াত আরও স্বচ্ছন্দ ও সুবিধাজনক করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যে ৫ জোড়া ট্রেন সোমবার থেকে দাঁড়াবে কেশরা কাটজুড়িডাঙা হল্টে তার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। যে ১০টি মেমু ট্রেন এখানে দাঁড়াবে তার মধ্যে রয়েছে ভোর ৫টা ৩২-এ বিষ্ণুপুর- আদ্রা মেমু, এবং রাত ৯টা ১০-এ আদ্রা- বিষ্ণুপুর মেমু। প্রতিটি ট্রেন এক মিনিট করে দাঁড়াবে বলে জানানো হয়েছে।
নতুনচটির বাসিন্দা সুবোধ দাস ও রূপেশ ব্যানার্জি এবং কেশড়ার প্রদীপ পালরা জানান, এই হল্ট স্টেশন চালু হওয়ায় তারা খুশি। এতে তাদের সময় ও স্টেশন যাওয়ার গাড়ি ভাড়া বাঁচবে।কেননা দীর্ঘ চার পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাঁকুড়া স্টেশনে এসে তাদের ট্রেন ধরতে হতো। রেলের এই সিদ্ধান্তে তাদের আন্দোলন সফল হল। এতে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও পরিজনদের অনেকটাই সুবিধা হবে।

