“জেলে পার্থ-কেষ্টর চিকিৎসার জন্য হাকিম সাহেবের দরকার,” ফিরহাদকে পাল্টা কটাক্ষ সুকান্তর

আমাদের ভারত, ২৭ আগস্ট: জেলে যেতে ভয় পাই না। কিন্তু মান সম্মান হানি মেনে নেবো না। সুকান্তের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দলীয় সভায় এভাবেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কারণ সুকান্ত মজুমদার বলেছিলেন, এবার জেলে যাওয়ার পালা ববি হাকিমের।

দুর্নীতি ইস্যুতে সুকান্ত মজুমদারের লাগাতার আক্রমণের মুখে সংবাদমাধ্যমের সামনে এসে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন ফিরহাদ হাকিম। তার পালটা হিসাবে আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ফিরহাদের একাধিক মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

ফেসবুক পোস্টে সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, “পার্থবাবু, অনুব্রতবাবু জেলে যাওয়ার পর থেকেই ঘনঘন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। এই দুই অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার জন্য একজন হাকিম সাহেবের দরকার। হাকিম সাহেব জেলে অনুব্রত এবং পার্থবাবুকে না দেখলে তারা সুস্থ হবেন কি করে?” হ্যাঁ এভাবেই ফের চুড়ান্ত কটাক্ষের সুরে ববি হাকিমের ক্ষোভের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার।

সুকান্ত মজুমদার লিখেছেন, তার বক্তব্যের জন্য রাজ্যের একজন অন্যতম মন্ত্রী রেগে গিয়ে অনেক কথা বলেছেন। এই কথা শুনে বাংলা প্রবাদ মনে পড়ে গেল– ঠাকুর ঘরে কে আমি তো কলা খাইনি। একই সঙ্গে বেশ বেশকিছু পুরনো স্মৃতির কথা মনে করিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি।

তিনি মনে করিয়েছেন, হাঁসখালির নির্যাতিতার কথা, পার্কস্ট্রিটের ধর্ষণকাণ্ডের নির্যাতিতার চরিত্র হননের কথা। সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ভোট দিয়ে যারা রাজনীতিবিদদের তৈরি করে সেই সাধারণ মানুষের আত্মসম্মান রয়েছে। সেই আত্মসম্মানের কথাটা ফিরহাদ হাকিমের পক্ষে ভুলে যাওয়াটা সহজ বলেই হাঁসখালির নির্যাতিতার ঘটনায় লাভ অ্যাফেয়ার্সের তত্ত্ব হাজির করেছিলেন। কিংবা পার্ক স্টিট ধর্ষণকাণ্ডে বাণিজ্যিক সমস্যা তত্ত্ব নিয়ে নির্যাতিতার চরিত্র হরণ করা হয়। সুকান্ত প্রশ্ন তুলেছেন, এই মহিলাদের আত্মসম্মান ছিল না?

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্রের ঘটনা নিয়ে। যাকে কার্টুন আঁকার কারণে হাজতবাস করতে হয়েছিল। প্রশ্ন তুলেছেন, সারের দাম কেন বাড়ছে জিজ্ঞেস করার জন্য ঝাড়গ্রামে শিলাদিত্যকে মাওবাদী বানিয়ে জেল খাটানো হয়েছিল, তা নিয়ে।

ফিরহাদ হাকিম প্রশ্ন করেছিলেন, গেরুয়া রঙের ওয়াশিং মেশিনে গেলে সবাই সাধু। এই প্রশ্নের উত্তরে একেবারে পরিসংখ্যান তুলে ধরে ফিরহাদকে জবাব দিয়েছেন সুকান্ত। তিনি বলেছেন ২০১১-২০২১ পর্যন্ত ২৮ বাম জন বিধায়ক, ২০১৬-২০১৮ পর্যন্ত ১৩ জন কংগ্রেস বিধায়ক নীল সাদা রঙের ওয়াশিং মেশিনের ঢুকে সাধু হয়ে গেছিলেন সে কথা কি করে ভুলে গেলেন ববি? মানস ভুঁইয়া, শওকত মোল্লা, রেজ্জাক মোল্লা, নাজমুল হোসেন, উদয়ন গুহ, পরেশ অধিকারী, আবু আয়েশ মন্ডলের কথা মনে করিয়ে সুকান্ত বলেছেন, কোন মেশিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এদের? তার অভিযোগ, ঘোড়া কেনাবেচা তৃণমূলের রীতি।

ফিরহাদ বলেছেন, ভারতে আইন সংবিধান আছে। যা- খুশি করা যায় না। এর প্রেক্ষিতে সুকান্ত বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ আজ চোরেদের জন্য উন্মুক্ত। আইনি ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের পাশে না দাঁড়ালে বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থীরা ন্যায্য অধিকারের চাকরিগুলো পেতেন না। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা রাষ্ট্র ভাবে, যেখানে তৃণমূলের সংবিধান চলবে, এটা ভেবে নিয়েছিল তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *