আমাদের ভারত, ১০ মার্চ: সরকারি-বেসরকারি বা কোনো ধর্মীয় স্থানে ঋতুমতীদের যাতে কোন ভাবে হেনস্থা না হতে হয় সেই জন্য পদক্ষেপ করা দরকার। এই বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের মতামত জানতে চাইল গুজরাট হাইকোর্ট। ঋতুমতীদের নিয়ে সামাজিক নানা ধরনের প্রচলিত ছুৎমার্গ দূর করার প্রস্তাব দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে কি করণীয় তার পরামর্শ চাওয়া হয়েছে।
২০২০-র ফেব্রুয়ারীতে গুজরাটের ভুজে শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইনস্টিটিউটের হোস্টেলে ৬৮ জন ঋতুমতী মেয়েকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছিল। জানা যায় ঋতুস্রাবের দিনগুলিতে ইনস্টিটিউটের হোস্টেলের মূল ভবনের নিচে একটি আলাদা ঘরে ঋতুবতী মেয়েদের আলাদা করে রাখা হতো। আর এটা ছিল বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে কেউ কেউ নাকি তাদের ঋতুস্রাবের কথা লুকিয়ে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে থাকছে বলে গুজব ছড়ায় সেখানে। আর তার ফলেই ৬৮ জন কলেজ পড়ুয়াকে নগ্ন করে সত্যতা যাচাই করেন হোষ্টেল কর্তৃপক্ষ। বলা হয় ঋতুস্রাবের কথা লুকিয়ে রাখার ফলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসতেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। কেন ঋতুমতীদের প্রতি এই বৈষম্যে? এর বিচার চেয়ে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন সমাজকর্মীর নির্ঝরী সিনহা মাট্টার। মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি পর্দিওয়ালা নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চে মামলা চলাকালীন নির্ঝরীর আইনজীবী মেঘা জানি আদালতে জানান, ঋতুস্রাব একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। প্রত্যেক মহিলাকেই প্রজনন চক্রের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। তার পরেও বিষয়টি নিয়ে ছুৎমার্গ দূর হয়নি। বলা হয় ঋতুমতী অবস্থায় মেয়েরা অপবিত্র হয়ে ওঠে ও তার চারপাশের পরিবেশকে দূষিত করে। যে কারণে দৈনন্দিন জীবনে আজও বৈষম্য ও হেনস্থার শিকার হতে হয় মেয়েদের। এখনো ওই দিন গুলিতে এক ঘরে রাখা করে রাখা হয় মেয়েদের। তাদের রান্না ঘরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। ছুতে দেওয়া হয় না বাসনপত্র। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে তারা যোগ দিতে পারেন না।
এদিন আদালতে তরফের একটি নির্দেশিকার মাধ্যেমে প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয় সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হোস্টেল, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহ সমস্ত জায়গায় ঋতুস্রাবের জন্য মেয়েদের যাতে এক ঘরে করে না রাখা হয় তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে। স্বাস্থ্যকর্মী, কিশোরী মেয়ে এবং তাদের বাবা-মায়ের মধ্যে এই বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে স্কুলের পঠন পাঠনেও। আদালতের তৈরি নির্দেশিকা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের কিমত তা জানার পরে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। আগামী ৩০ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

