আমাদের ভারত, ২৭ ফেব্রুয়ারি:আগামী ১ মার্চ থেকে ভারতের তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হবে। ৬০ বছরের ওপর বয়স্ক এবং ৪৫ থেকে ৫৯ বছর বয়স অবধি কমর্বিডিটি রোগীদের টিকা দেওয়া হবে। তৃতীয় পর্বে ২৭ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আসন্ন পর্যায়ে অন স্পট রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ পাবেন উপভোক্তারা। সরাসরি যে কোনো টিকাকরণ কেন্দ্রে গিয়ে নাম লিখিয়ে টিকা নিতে পারবেন তারা।
এখনো পর্যন্ত ১ কোটি ৪২ লাখ মানুষ টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছেন। স্বাস্থ্যকর্মী, আশা কর্মী, কোভিড ফ্রন্টলাইন কর্মীরা যারা প্রথম দুই পর্বে টিকার ডোজ পাননি তারাও এই পর্বে টিকা নিতে পারবেন।
তৃতীয় পর্বের টিকাকরণের গাইডলাইন প্রকাশ করেছে কেন্দ্র সরকার। আগে টিকা করনের জন্য অনলাইন পোর্টাল থেকে নাম নথিভুক্ত করতে হতো। সচিত্র পরিচয় পত্র দিয়ে নাম রেজিস্ট্রি করলে মোবাইলে এসএমএস পাঠিয়ে টিকাকরণ কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা বিস্তারে বলা থাকতো। কিন্তু এবার এই ব্যবস্থা ছাড়াও টিকাকরণ কেন্দ্রে সরাসরি গিয়েও নাম লেখানো যাবে। সেক্ষেত্রে স্বচিত্র পরিচয় পত্র দিতে হবে তবে।বয়স্কদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা থাকছে। কো- উইন ছাড়াও আরোগ্য সেতু অ্যাপ থেকেও নাম রেজিস্ট্রেশন করানো যাবে। দুটি অ্যাপেই নির্দিষ্ট এলাকায় কোথায় কোথায় টিকাকরণ কেন্দ্র হয়েছে কোন সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে, কোন সময় টিকা দেওয়া হবে, ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য আরোগ্য সেতু অ্যাপ থেকে পাওয়া যাবে। প্রবীণ নাগরিকদের নিজেদের পছন্দমতো টিকাকরণ কেন্দ্র বাছতে পারবেন। এতে তাদের লাইনে বেশি ক্ষণ দাঁড়ানোর ঝোক্কি পোয়াতে হবে না। বাড়ির কাছাকাছি পছন্দমত হাসপাতালকে বেছে নিতে পারবেন বয়স্করা।
প্রায় ১০ হাজার সরকারি হাসপাতাল ও ২৯ হাজার বেসরকারি হাসপাতালে টিকা দেওয়া হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে টিকা দেয়া হবে। তবে বেসরকারি হাসপাতালে দাম দিয়ে টিকা নিতে হবে। ৪৫-৬০ বছর বয়সী যাদের শরীরের নানা রকম ক্রনিক রোগ রয়েছে তাদের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। তাদের কি ধরনের রোগ আছে, তার জন্য কি চিকিৎসা হয়, রোগী কি ওষুধ খান তা বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে।
এছাড়াও কমোর্বিডিটি রোগীরা তাতে টিকা নিতে আসেন তার জন্য আশা কর্মী , স্বাস্থ্য কর্মী ও পঞ্চায়েত কর্মীদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
টিক নেওয়ার জন্য নাম নথিভুক্ত করাতে আধার কার্ড, ইলেক্টোরাল ফটো আইডি কার্ড, আধার কার্ড, পাসপোর্ট, প্যানকার্ড, স্বচিত্র পরিচয় পত্র লাগবে। আর যারা আগে নাম লেখাবেন ইন্টারনেটে তাদের অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সময় যে ফটো আইডি কার্ড দিতে বলা হয়েছিল তার কপি লাগবে। তাছাড়া লাগবে নিজের পাসপোর্ট সাইজের ফটো।
টিকা নেওয়ার আগে মোবাইলে এসএমএস আসবে। সেখানে টিকা নেওয়ার দিন ও জায়গা বলা থাকবে। টিকাকরণ কেন্দ্রে গিয়ে নাম লেখাতে চাইলে পরিচয়পত্র দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন হবেএখনো পর্যন্ত ১২ টি ভাষায় এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।টিকার দুটি ডোজের দেওয়ার পর একটি কিউ আর কোড নির্ভর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এই সার্টিফিকেটটি মোবাইলে রাখা যাবে। এছাড়াও যারা ভ্যাকসিন নেবেন তাদের নাম থাকবে ডিজি লকার নামে একটি ডকুমেন্ট স্টোর অ্যাপে।সেই সঙ্গে থাকবে হেলপ্লাইন। এটি সপ্তাহের সাত দিন ২৪ঘন্টা চালু থাকবে।
পেশীর নিচে টিকার ইনজেকশন দেওয়া হবে। ডোজ দেওয়ার পরে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। তার জন্য থাকবে অবজারভেশন রুম। আধঘণ্টার মধ্যে কোন রকম শারীরিক অস্বস্তি শুরু হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

