আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগনা, ১২ ফেব্রুয়ারি: বনগাঁয় বিজেপিতে গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল। এবার বিরোধ বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের সঙ্গে বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের। বনগাঁ উত্তরের বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসকে দেখা যায়নি ঠাকুর নগরে অমিত শাহের মঞ্চে। বিশ্বজিৎ দাস ঠাকুর নগরে গেলেও অমিত শাহের নিরাপত্তা রক্ষীরা তাঁকে অমিত শাহের মঞ্চে যেতে দেয়নি। জানা যায়, অমিত শাহের নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে যে তালিকা বিজেপির পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল তাতে বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাসের নাম ছিল না। এই ঘটনায় নিজেকে অপমানিত মনে করেন বিশ্বজিৎ দাস।
শুক্রবার নিজের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে দলীয় সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, “শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের সামনে রেখে দলকে ব্লাক মেইল করছে। মতুয়ারা জানতে চাইছে কবে নাগরিকত্ব আইন ফলপ্রসূ হবে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলে গেছেন করোনা ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া শেষ হবে, তারপর সিএএ প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেক্ষেত্রে গোটা দেশে এই প্রক্রিয়া শেষ হতে ১০ বছর লেগে যেতে পারে। আমার মনে হয় যাদের ভোটাধিকার আছে তাদের নাগরিকত্বের দরকার নেই। তারা সবাই নাগরিক, নাগরিক বলেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার অধিকার পেয়েছেন। শান্তনু ঠাকুর যেটা করছে সেটা দলকে ব্লাক মেইল করছে। আমি দলীয় নেতৃত্বকে সব জানাব।” উল্লেখ্য দিনকয়েক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিশ্বজিত দাস। তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা চলছে।
বিশ্বজিত দাসের পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন শান্তনু ঠাকুর। তিনি বলেন, “উনার ইঙ্গিত তো দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেই। আমি তো সিএএ আইন আনিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তর এনেছেন, মাননীয় গৃহমন্ত্রী নিজে গোটা বিষয়টি মতুয়া ভক্তদের বুঝিয়ে গেছেন। এরপর আমার আর কিছু বলার থাকে না। বিশ্বজিৎ দাস যা বলছেন তা স্বরাষ্টমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করেই। কে কাকে ব্লাক মেইল করছে বুঝে নিন।”
এদিকে সি এ এ নিয়ে বিজেপি ভাঁওতা দিচ্ছে বলে এদিন ফের অভিযোগ করেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেন, ওরা মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করছে, ভাঁওতা দিচ্ছে, বিজেপি মিথ্যা বলছে।

