আমাদের ভারত, ১১ নভেম্বর: বকেয়া ডিএ এবং সকল শূন্যপদে স্বচ্ছ ভাবে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের ডাকে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি হিসাবে শুক্রবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়।
এক বিবৃতিতে উদ্যোক্তারা জানান, “আপনারা সকলেই জানেন যে, উচ্চ আদালতের রায় মেনে এআইসিপিআই অনুযায়ী অবিলম্বে সমস্ত বকেরা ডিএ প্রদান এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দফতরের সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছভাবে স্থায়ী নিয়োগের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, আদালত কর্মী, পৌর নিগম কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, চিকিৎসক ও নার্সদের বিভিন্ন সংগঠনকে একত্রিত করে গড়ে উঠেছে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’। আপনারা এও জানেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী, ডাক্তার, নার্স সহ ডিএ প্রাপক কর্মচারীগণ রোপা-২০০৯ এবং রোপা-২০১৯ জুড়ে এআইসিপিআই অনুযায়ী শুধু আর্থিক দিক দিয়ে চরমভাবে বঞ্চিত নয়, আমাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত প্রাপ্য ডিএ’র অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ডিএ শূন্যভাবে ষষ্ঠ বেতন কমিশন চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে সারা দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে কর্মচারীগণ সবচেয়ে কম ডিএ পান। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীগণ বর্তমান ঘোষণা অনুযায়ী যেখানে ৩৮ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন তখন এ রাজ্যে আমাদের দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৩ শতাংশ ডিএ। এর ফলে বর্তমানে প্রতি ১০০০০ টাকা বেসিক পে-তে প্রায় ৩৫০০ টাকা করে কম পাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীগণ। ফলস্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গ দেশের সমস্ত রাজ্যের মধ্যে কর্মচারিদের ডিএ পাওয়ায় সর্বনিম্ন স্থানে বিরাজ করছে।
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর কলকাতা হাইকোর্ট কর্মচারিদের ডিএ-র অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসাবে মান্যতা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ২০ মে উচ্চ আদালতের রায়ে পঞ্চম বেতন কমিশনের সমস্ত বকেয়া ডিএ তিন মাসের মধ্যে (১৯ আগস্ট, ২০২২, সময়সীমা শেষ) মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের যে, রাজ্য সরকারের এ ব্যাপারে এখনো কোনো হেলদোল নেই। বরং সেই রায়ের বিপক্ষে তারা নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করে দিয়েছে।
শুধু ডিএ নয়, সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি আজ কর্মচারি, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর অভাবে চরমভাবে ধুঁকছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেটুকু নিয়োগ হয়েছে তাতে চূড়ান্ত ভাবে দুর্নীতির নজির সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে। যোগা বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘদিন রাস্তায় পড়ে থেকে আন্দোলন করছে। কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অকৃতকার্যদের বিক্রি করা হয়েছে নিয়োগপত্র।
যেটুকু নিদর্শন সামনে এসেছে অনেকের মতে তা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। বহু নতুন পদ সৃষ্টির পরিবর্তে যে পদগুলি রয়েছে তাকেই অবলুপ্ত করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বেকারির মতো সামাজিক সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণ ন্যায্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হচ্ছে। সরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ইত্যাদি কর্মক্ষেত্রের পদগুলিতে যদি নিয়োগ না হয় তাহলে আমাদের অস্তিত্বই একদিন বিলোপ হয়ে যাবে।
এই দুটি দাবিকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই যেমন জারি রয়েছে তেমনি রাজপথের লড়াইকে আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করতে হবে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আসুন বন্ধু, হাতে হাত মিলিয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন গড়ে তুলি।
ইতিমধ্যে গত ১১ জুন, ২০২২, কলকাতার রাজপথে হাজার হাজার কর্মচারী, শিক্ষক, ডাক্তার, নার্সনের যৌথ মহা মিছিল সংঘটিত হয়েছে। তারপর গত ২৮ জুলাই, ২০২২, কলকাতা ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বানে রাজ্য কনভেনশন আপনারা লক্ষ্য করেছেন। এর পর গত ২৭ আগস্ট, ২০২২, ব্যাপক প্রাকৃতিক দুর্যোগকে উপেক্ষা করে প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষক, ডাক্তার, নার্স সহ সরকারি কর্মচারিদের সুবিশাল বিক্ষোভ মিছিল এবং ডেপুটেশন কর্মসূচি সংঘটিত হয়েছে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এই আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করে গড়ে তুলতে হবে।
লাগাতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সমস্ত বকেয়া ডিএ এবং সকল শূন্য পদে নিয়োগের দাবিতে আমরা আবার একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। ২২ অক্টোবর, আমরা চাকরি প্রার্থীদের ধর্না মঞ্চে গিয়ে তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াইকে কুর্নিশ জানাতে সংহতি জ্ঞাপন করার কর্মসূচি নিই। এরপর ১১ নভেম্বর, শুক্রবার রাজ্যের প্রতিটি জেলার সদর দপ্তরের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ এবং জেলাশাসককে স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিবৃতিতে সই করেছেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়কবৃন্দ ভাস্কর ঘোষ, বিশ্বজিৎ মিত্র, তাপস চ্যাটার্জি, দেবপ্রসাদ হালদার।

