জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: মেয়ের সংসারে অশান্তি। বিহারে বাপের বাড়িতে চিকিৎসার নামে সদ্যোজাত নাতনীকে বিক্রি। শেষ পর্যন্ত দুর্গাপুর থেকে পুলিশি তৎপরতায় দিদিমাকে গ্রেফতার করে উদ্ধার হল শিশুকন্যা। মঙ্গলবার তাদের দুর্গাপুরে ফিরিয়ে আনল পুলিশ।
ঘটনায় জানাগেছে, দুর্গাপুর বিজু পাড়ার বাসিন্দা নাজিস খানের সঙ্গে বিয়ে হয় বিহারের মাসারফ থানার মুসকান খাতুনের। সাড়ে চার মাস আগে তাদের কন্যা সন্তান হয়। পারিবারিক অশান্তির জেরে গত ২১ জুন মুসকান খাতুনকে তার মা শাহানা খাতুন বিহারে নিয়ে যায়। সেখানে নাতনিকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ। মুসকানের প্রশ্নের জবাবে তার মা শাহানা খাতুন নাতনিকে বিক্রির কথা স্বীকার করে নেয়। তারপর মেয়েকে নতুন করে বিয়ে দেওয়ার কথায় জানান শাহানা খাতুন। তাতে আপত্তি থাকায় মুসকানের ওপর অত্যাচার করত বলে অভিযোগ।
কোনোক্রমে বিহার থেকে দুর্গাপুরে ফিরে স্বামী নাজিস খানকে জানান, গোটা বিষয়টি জানান তিনি। তারপর ৭ জুলাই দুর্গাপুর আদালতের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এবং কয়েকদিন আগে বিহারের মশারফ থানা এলাকা থেকে শাহানা খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে তাকে নিজ হেপাজতে নিয়ে শিশুকন্যার হদিশ শুরু করে। শাহানা খাতুনের বিবরণ মোতাবেক পুলিশ সোমবার বিক্রি হওয়া ওই শিশুকন্য উদ্ধার করে। মঙ্গলবার ওই শিশুকন্যাকে আনা হয় দুর্গাপুরে। এবং মুসকানের হাতে তুলে দেয় তার শিশুকন্যাকে। নিজের সন্তানকে ফিরে পেয়ে খুশি মুসকান ও তার স্বামী নাজিস। কি উদ্দেশ্যে নাতনিকে বিক্রি করেছিল শাহানা খাতুন তার তদন্ত শুরু করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।

