আমাদের ভারত, ২৫ জুলাই:সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিবাহের পর পণ না-নেওয়ার মুচলেকা দেওয়ার নির্দেশ দিল কেরলের রাজ্য সরকার। বিয়ের এক মাসের মধ্যে সেই মুচলেকা নির্দিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই মুচলেকায় সই করবেন হবে স্ত্রী, শ্বশুর ও তার বাবা।
কেরল সরকারের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের পক্ষ থেকে এই নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দপ্তরের মন্ত্রী অনুপমা টিভির স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানের কাছে পৌঁছে গেছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে অবিলম্বে এই বিষয়ে যেনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সরকারের নির্দেশে বলা হয়েছে বছরে দুটি অর্ধে এই বিষয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এপ্রিল ও অক্টোবরে রাজ্য সরকারের কাছে নির্দিষ্ট ভাবে এই রিপোর্ট জমা করতে হবে নির্দিষ্ট দপ্তর গুলিকে। রিপোর্ট জমা দিতে হবে জেলার পণ বিরোধী আধিকারিকের দপ্তরেও।
নির্দেশিকা আরো লেখা হয়েছে পণ দেওয়া ও নেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। শাস্তির সময়সীমা সর্বনিম্ন পাঁচ বছর, জরিমানা সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা বা পণের সমপরিমাণ। কেউ পণ চাইলেই তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে।
পণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একের পর এক নারী মৃত্যুর খবর আসার পরে পণ প্রথা বিরোধী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করার দাবিতে সে রাজ্যের রাজ্যপালও অনশন বসেছিলেন। এই ঘটনা ছিল নজিরবিহীন। রাজ্য সরকার তখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেয়। এরপর
কেরলে পণপ্রথার উপর বিশেষ আইন এনেছে রাজ্য সরকার। এছাড়াও ২৬ নভেম্বর দিনটিকে পণ প্রথা বিরোধী দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিভিন্ন স্কুল কলেজ সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর কাজ হবে বলে জানা গেছে।

