দিল্লিতে নির্বাচিত সরকারের চেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেলের ক্ষমতা বেশি , করোনা পরিস্থিতিতেই নতুন আইন কার্যকর কেন্দ্রের

আমাদের ভারত, ২৮ এপ্রিল: মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল থেকে দিল্লিতে কার্যকর হয়ে গেল গভর্মেন্ট অফ ন্যাশনাল ক্যাপিটাল টেরিটরি অফ দিল্লি সংশোধনী আইন ২০২১। এখন থেকে দিল্লি সরকারকে প্রতিটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে লেফটেন্যান্ট জেনারেলের অনুমতি নিতে হবে। তিনি দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি।

দিল্লিতে প্রবল করোনা সংকটের মধ্যেই কেন্দ্র সরকারের বিতর্কিত আইন কার্যকর করা হলো। এই আইন অনুযায়ী রাজধানীর প্রশাসনিক ব্যাপারে নির্বাচিত সরকারের চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা বেশি।দিল্লির সরকার বলতে লেফটেন্যান্ট গভর্নরকে এবার থেকে বোঝা হবে। তিনি দিল্লীতে কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধি।

গত মাসে সংসদের দুই কক্ষে ওই সংক্রান্ত বিল গৃহীত হয়। দুই কক্ষেই তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি পাস হয়ে যায়। বিলটি আইনে পরিণত হবার পর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন,” আজ ভারতীয় গণতন্ত্রের দুঃখের দিন। নতুন আইন করে রাজধানীর মানুষকে অপমান করেছে কেন্দ্র সরকার। জনগণ যাদের ভোট দিয়েছেন নতুন আইনে তাদের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যাদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।” ২০২০ সালে দিল্লির ভোটে আম আদমি পার্টি ৭০ এর মধ্যে ৬২ টি আসন পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৮ আসন। কংগ্রেস একটিও পাইনি।

কেজরিওয়ালের অভিযোগ, বিজেপির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের মাধ্যমে দিল্লির প্রশাসন চালাতে চায়। নির্বাচিত সরকারের প্রকল্প গুলি বন্ধ করে দেওয়াই তাদের উদ্দেশ্য।

২০২৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ বলে, দিল্লির মন্ত্রিসভায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা অবশ্যই লেফটেন্যান্ট গভর্নর কে জানাতে হবে। কিন্তু পুলিশ, আইন শৃঙ্খলা এবং জমি সংক্রান্ত বিষয় ছাড়া অন্য ব্যাপারে তার সম্মতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিচারপতিরা বলেন, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের ক্ষমতা কোন রাজ্যের রাজ্যপালের সমান নয়। লেফটেন্যান্ট গভর্নর সীমিত অর্থে প্রশাসক। শীর্ষ আদালত আরো জানায় লেফটেন্যান্ট গভর্নর মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য। তার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *