আমাদের ভারত, ১৪ জুন: রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে আজ রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করলেন বিজেপির প্রতিনিধি দল। রাজভবনের খোলা বারান্দায় তাদের সাথে বৈঠক করেন রাজ্যপাল, যা নজিরবিহীন। বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ শানান রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। সেই সময় তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি নেতৃত্বরা।
রাজ্যপালের অভিযোগ, সংবিধানে হাত রেখে শপথ নিলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দায়িত্ব পালন করছেন না। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তারা আগুন নিয়ে খেলছেন। সকালে টুইট করে রাজ্যপাল জানিয়েছিলেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতেই বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন রাজভবনে। বিধানসভা থেকে পায়ে হেঁটে বিকেল চারটে নাগাদ শুভেন্দুর নেতৃত্বে বিজেপি প্রতিনিধি দল রাজভবনে পৌঁছায়। রাজভবনের বারান্দায় রাজ্যপালের সঙ্গে তাদের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে বিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন।
সেখানে রাজ্যপাল বলেন, বাংলায় গণতন্ত্র শ্বাস নিতে পারছে না। মানুষ রায় দিয়েছেন। কিন্তু প্রশাসন তার কাজ করছে না। বরং প্রশাসনিক কর্তারা আগুন নিয়ে খেলছেন। রাজ্যজুড়ে লাগাতার একের পর এক ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা ঘটছে। অথচ একবারের জন্যও সেইসব এলাকাগুলিতে মুখ্যমন্ত্রী যাননি। লাগাতার হিংসা সত্বেও প্রশাসন নিরব। মানুষের দুর্দশা দেখে তার চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন রাজ্যপাল। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে তার পরামর্শ, “রাজত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন গণতন্ত্র মেনে চলুন”।
রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগের সরব হয়েছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথ বাক্য পাঠ করানোর পরই মুখ্যমন্ত্রীকে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে পদক্ষেপ করতে বলেন তিনি।
সোমবার ফের সরাসরি মমতাকে আক্রমণ করলেন রাজ্যপাল। আবারও মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী এই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান। সংবিধানে হাত রেখে শপথ নিয়েছেন তিনি।তাই সেই দায়িত্ব তাকে পালন করতেই হবে। আইন মেনে কাজ করতেই হবে।
তবে শুধু ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা নয়। নারদ কান্ডে তৃণমূলের দুই মন্ত্রী ও এক নেতা গ্রেপ্তারের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আচরণেরও সমালোচনা করেন রাজ্যপাল। সিবিআই-এর কাছে মমতা যেভাবে “আমাকে গ্রেফতার করুন” বলে হুঁশিয়ারি দেন তা গণতান্ত্রিক দেশের নজরবিহীন ঘটনা বলেই কটাক্ষ করেন রাজ্যপাল।
অন্যদিকে রাজ্যপালের সাথে বৈঠকের পর মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। নন্দীগ্রামের বিজেপির বিধায়ক বলেন,”কেউ যদি ভেবে থাকেন ক্ষমতার দম্ভে, বাংলায় বিরোধীদের খতম করবেন তাহলে ভুল করবেন। ভোট মিটে যাওয়ার এক মাস ১২ দিন পরেও সতেরো হাজারের বেশি বিজেপি কর্মী ঘর ছাড়া। তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতেই হবে। ২ মের পর তিন হাজারের বেশি বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই বিষয়ে আদালতে যাব আমি, এভাবে ভয় দেখিয়ে আটকানো যাবে না আমাদের।”

