আমাদের ভারত, ১৫ মে: “বেঁচে থাকার জন্য মানুষকে ভিক্ষা চাইতে হচ্ছে, আমরা কোথায় এসে পৌঁছেছি। আমি লজ্জিত।” আজ নন্দীগ্রামে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি বলেন ,”স্বাধীনতা উত্তর ভোট পরবর্তী সবচেয়ে বড় হিংসা,” একই সঙ্গে তার অভিযোগ এটি সরকার মদতপুষ্ট হিংসা”।
নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যপাল বলেন, ” বাড়িতে বোমা মেরে ধ্বংস করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন কেউ আসছে না আমরা কোথায় যাচ্ছি? কল্পনা করতে পারছিনা যে স্বাধীনতার পর ভারতে এমন দৃশ্য দেখতে হবে। ভোট দেওয়ার জন্য মানুষকে এভাবে মাশুল দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি রাজ্যে করোনা যত বড় সমস্যা সেই রকমই নির্বাচন-পরবর্তী হিংসাও বড় সমস্যা। মুখ্যমন্ত্রী দয়া করে নজর দিন। যেখানেই যাচ্ছি বলছে মানুষ বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। যারা আছেন হয় তাদের মাথা ফেটেছে না হলে তারা আহত। এই ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে হবে ভাবি নি। অন্তত ১ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া। এটা কেমন ব্যবস্থা? কিছু কিছু মানুষ পুলিশ প্রশাসন কাউকেই ভয় পাচ্ছে না। আর কিছু মানুষ পুলিশ প্রশাসনের ভয় ঘুমোতে পারছেনা।”
এদিন সাড়ে চার ঘন্টা নন্দীগ্রামের ছিলেন রাজ্যপাল। কখনো পায়ে হেঁটে কখনো অটোতে কখনো বা মোটর বাইকের পেছনে বসে নন্দীগ্রামে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে রাজ্যপাল বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যের প্রধান সেবক হিসেবে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, করোনার সঙ্গে যেমন লড়ছেন তেমন ভোট পরবর্তী হিংসা বন্ধ করতে উদ্যোগী হন। লাখো মানুষের দুঃখ বুঝুন। ভোট-পরবর্তী এত হিংসা ভারতে কখনো দেখা যায়নি। নিজের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার কারণেই এত হিংসা। এখনো পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য কোনো পদক্ষেপ করেছেন বলে আমার নজরে পড়েনি। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিন।”
রাজ্যপাল আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের এই অবস্থা দেখে আমার হৃদয় কাঁপে। হাতজোড় করে বলছি এই তাণ্ডব নৃত্য বন্ধ হওয়া দরকার এখনও আপনি কিছু করেননি। সবকিছু উপেক্ষা করেছেন। সরকারি মদত পুষ্ট এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে উদ্যোগী হন।”
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1393451799323942914?s=1006

