আমাদের ভারত, ১৩ মে:পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএফের হেলিকপ্টারে কোচবিহারে পৌঁছে যান রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর। শীতলকুচি সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। রাজ্যপালের সঙ্গে ছিলেন বিজেপির সাংসদ নিশীথ প্রামানিক সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক। তার এই সফর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ কোচবিহারে পৌঁছেই রাজ্যপাল পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, কিভাবে সাংবিধানিক পদকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী? একই সঙ্গে রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করেন।
কোচবিহারের গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে রাজ্যপাল বলেন, কোনও সাংবিধানিক পদকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী? তাঁর মতে সংবিধান লংঘন করছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যপাল বলেন,”বাংলা ছাড়াও চার রাজ্যে নির্বাচন হয়েছে। কোথাও রক্তপাত হয়নি। প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানি মূলক মন্তব্যের জেরেই হিংসা হয়েছে রাজ্যে।”
এদিন রাজ্যপাল মাথাভাঙার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছান। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে বাড়িতে যান তিনি। সন্ত্রাসের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের মহিলারা।
সরকারি প্রটোকল মেনেই রাজ্যপালের এই সফর হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন। তার জবাবে রাজ্যপাল বলেছেন, সাংবিধানিক বিধি মেনে শীতলকুচি সহ কোচবিহারের বিভিন্ন এলাকা সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেন, এই পরিস্থিতিতে সবার একজোট হয়ে কাজ করা উচিত। মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি লিখেছেন, “আমি ও আপনি দুজনেই সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রাপ্ত। শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধান মেনে চলতে আমরা বাধ্য। আপনার তরফে যে অবস্থান নেওয়া হয়েছে আমি তাতে রাজী হতে পারছি না। আমি জানি আপনি অন্তত সংবিধান মেনে চলেন।”
এদিন শীতলকুচিতে রাজ্যপালকে কালোপতাকা দেখানো হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরাই কালো পতাকা দেখিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে রাজ্যপাল বেছে বেছে শুধু বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে গিয়েছেন বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে। তিনি একজনও ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাননি। দিনহাটা থেকে সিতাই পর্যন্ত বহু তৃণমূল কর্মী আক্রান্ত হলেও তাদের বাড়িতে যাননি রাজ্যপাল। তাদের মতে এর থেকে স্পষ্ট রাজ্যপাল ঠিক কতটা নিরপেক্ষ!

