নন্দীগ্রামে নির্যাতিতদের কষ্ট দেখে কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল, হাতজোড় করে মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করলেন হিংসা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে

আমাদের ভারত, ১৫ মে:
নন্দীগ্রামে গিয়ে নির্যাতিত মানুষের কষ্ট দেখে কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা খতিয়ে দেখতে শনিবার নন্দীগ্রামে যান রাজ্যপাল। সেখানে আক্রান্তদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের অভাব অভিযোগ শোনেন। এমন সময় তাদের সামনেই কেঁদে ফেললেন রাজ্যপাল।

করোনার এই মারাত্মক পরিস্থিতির মধ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ। বিজেপি তথা বিরোধীদের অভিযোগ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা তাদের উপর হামলা চালাচ্ছে। এই অভিযোগের পর রাজ্যের বিভিন্ন হিংসা কবলিত অঞ্চলগুলি ঘুরে দেখছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। সফরে বেরিয়ে শনিবার তিনি নন্দীগ্রাম এবং তার সন্নিহিত এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। সেখানে আক্রান্তের আর্তনাদ শোনেন তিনি। সেই সময় তার চোখেও জল চলে আসে। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে অনুরোধ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মানুষের দুঃখ বুঝুন।”

২০০৭ সালের পর নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করলেন বাংলার কোনও রাজ্যপাল। এক সপ্তাহে আগেই নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিদল। এরপর শনিবার নন্দীগ্রামে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়। নন্দীগ্রামে পা রেখে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। তিনি বলেন, “একদল মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে আরএকদল বেপরোয়া। পুলিশ প্রশাসনের কোনো ভয় নেই সময় হয়ে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার।” তিনি বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ অসহায়। হাতজোড় করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি মানুষের দুঃখ বুঝুন।”

এর আগে তিনি কোচবিহারে গিয়েছিলেন সেখানেও হিংসা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। এমনকি কোচবিহারে থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে অসমে শিবিরে থাকা আক্রান্তদের সঙ্গেও দেখা করেন। আজ কোচবিহার থেকে হেলিকপ্টারে নন্দীগ্রামে আসেন। সেখানে তাকে শুভেন্দু অধিকারী স্বাগত জানান। তবে পরিদর্শনের সময় শুভেন্দু অধিকারী তার সাথে ছিলেন না।

রাজ্যপাল কেন্দামারি, জলপাই, চিল্লাগ্রাম ইত্যাদি জায়গায় যান। অভিযোগ ছিল গ্রামে এক বিজেপি সমর্থক কে মারা হয়। ১৩ তারিখে মৃত্যু হয় দেবব্রত মাইতি। তার বাড়িতেও যান রাজ্যপাল। সেখানে মৃতের মা তার সামনে কাঁদতে কাঁদতে অজ্ঞান হয়ে যান। রাজ্যপালেরও চোখে জল চলে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না রাজ্যের এই পরিস্থিতিতে। তিনি বলেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করবেন যাতে এই বিষয়টির দিকে নজর দেন। অসংখ্য মানুষ ভুগছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *