রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত, টুইটারে জানিয়ে দিলেন রাজ্যপাল, সিপিএমের অভিযোগ তৃণমূলের পরামর্শেই হয়েছে

আমাদের ভারত, ১২ ফেব্রুয়ারি:
গণমাধ্যমে জানিয়ে রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। আজ থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে বলে টুইটে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

রাজ্যপাল টুইটে জানিয়েছেন, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী রাজ্যপালের ক্ষমতা বলে এই সিদ্ধান্ত‌ নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ জানুয়ারি বিধানসভার অধ্যক্ষ ও রাজ্যপালের মধ্যে বেনজির সংঘাতের খবর প্রকাশ্যে এসেছিল। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যক্ষ বলেছিলেন ভবিষ্যতে রাজ্যপাল স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিধানসভাঐ আসতে চাইলে আগে তার কারণ জানতে চাইবো, সেখানে ওনার কী ভূমিকা হবে।

এর আগে রাজ্যপাল জাগদীপ ধনখড়ও বিধানসভার অধ্যক্ষকে বিধানসভা চত্বরে দাঁড়িয়ে আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন অধ্যক্ষ।

প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসেছিলেন বিধানসভায় জাগদীপ ধনখড়। বিধানসভা চত্বরে দাড়িয়ে অধ্যক্ষকে বিরুদ্ধে আক্রমণ করে তিনি বলেছিলেন, “অধ্যক্ষ মনে করেন রাজ্যপালের বিরুদ্ধে যা খুশি বলার অধিকার তার আছে। তিনি কি নিজেকেই আইন ভাবছেন? আমি এসব অনাচার বরদাস্ত করবো না। অধ্যক্ষ যেন এরপর গভর্নরের ভাষণ ব্ল্যাকআউট না করেন। তাহলে আইনের পথে মোকাবিলা করতে হবে তাকে।” রাজ্যপাল রাজ্য সরকারকেও জোরালো ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন ওদিন।

এর পাল্টায় রাজ্যপালের সমালোচনা করেছিলেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যপাল এখানে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করতে এসেছিলেন কিন্তু তিনি সেই মঞ্চকে সাংবাদিক বৈঠকের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করবেন তা জানা ছিলো না। তার এই আচরণে অবাঞ্ছিত, অসৌজন্যমূলক। এই প্রটোকল রীতিনীতির বাইরে। এরপর রাজ্যপালকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব আনার চেষ্টা হয়েছে সংসদে তৃণমূলের তরফে। একাধিক জায়গায় রাজ্যপালের সমালোচনায় মুখর হয়েছে রাজ্যের শাসক দলের নেতার। কিন্তু তার মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলেছেন রাজ্যপাল।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সাংসদ সৌগত রায় বলেছেন, রাজ্যপাল সাংবিধানিক সংকট তৈরি চেষ্টা করছেন রাজ্যে। তিনি টুইট করে না জানিয়ে চিঠি দিয়ে জানাতে পারতেন, তিনি তা করেননি। রাজ্যপাল সংবিধান বলে ক্ষমতা পেয়েছেন কিন্তু সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কুনাল ঘোষ বলেন, পরিষদীয় মন্ত্রীর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রাথমিকভাবে একটি বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ছিল তারপর কথা বলে জেনেছি প্রথা মেনে বিধানসভা অধিবেশন শুরুর অনুমতি চাওয়া হয়েছিল রাজ্যপালের কাছে তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি টুইট করে স্থগিতের কথা জানিয়েছেন। আমাদের রাজ্যপালের একটি মুদ্রাদোষ হলো উনি কথায় কথায় টুইট করে ফেলেন। আমাদের রাজ্যপাল অধিক সবুজ মনের মানুষ হঠাৎ প্রেমে পড়ে গেলে টুইট করে ফেলবেন না। কিছু জিনিস গোপন রাখতে হয়।

অন্যদিকে সিপিআইএম নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, রাজ্যপালের এই নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে। তাঁর নির্দেশকে একমাত্র আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। কিন্তু রাজ্যপাল নির্দেশ জারি করার পর তৃণমূলের তরফে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে তাতে মনে হচ্ছে সরকারের পরামর্শে তিনি বিধানসভা স্থগিত করেছেন।

কিন্তু কেন বিধান সভা স্থগিত রাখতে রাজ্যপালকে পরামর্শ দেবে সরকার, এই প্রশ্নের উত্তরে বিকাশরঞ্জনবাবু বলেন, শাসকদলের আভ্যন্তরীণ ডামাডোলে সরকার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। বিধান সভা স্থগিত রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে শাসক দল। তবে এভাবে বেশিদিন চলতে পারে না, কারণ সরকারকে বাজেট পাশ করাতে হবে। বিধানসভা স্থগিত থাকলে বাজেট পাস করানো সম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *